Weight
0.5 kg
Dimensions
21 × 18 × 2 cm
Author Name
Brun sen
ISBN
9789392216930
Language
Bengali
Publisher
Mousumi
Publishing Year
2025
Weight
0.5 kg
Dimensions
21 × 18 × 2 cm
Author Name
Brun sen
ISBN
9789392216930
Language
Bengali
Publisher
Mousumi
Publishing Year
2025
Specifications
Binding
Hard Board
Publishing Year
2025
Pages
320
ক্রোধ, ঘৃণা, প্রেম, প্রতিশোধ, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং শক্তি— সবকিছুরই পরিণতি হিংস্রতা। হিংসা সত্যই কেবল আরও হিংসা ডেকে আনে।
এ হল এমন দুই মানুষের কাহিনী, যারা সম্পূর্ণ পৃথক প্রেক্ষাপট থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। কিন্তু দুজনেই যাত্রাপথ শেষ করে রাস্তায় হিংস্রতার সুদীর্ঘ চিহ্ন রেখে গিয়ে।
সর্বকালের সেরা যোদ্ধা হয়ে ওঠার উচ্চাকাঙ্ক্ষা এই দুই মানুষকে টেনে নিয়ে যায় নিষিদ্ধ অরণ্য— নিনগুয়ানি-তে। এই অরণ্য রহস্য আর কিংবদন্তিতে ঢাকা। শুধু প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বয়ে চলে এক আশ্চর্য কিংবদন্তি। এই অরণ্যই সর্বশ্রেষ্ঠ যোদ্ধা বেছে নেওয়ার জন্য নির্বাচিত ক্ষেত্র— যুদ্ধদেবতা।
তারা কি সফল হবে? কে হয়ে উঠবে যুদ্ধদেবতা, আর পাশাপাশি যুদ্ধ করে যাবে নিজেরই অতীত থেকে উঠে আসা দানবের সঙ্গে?
স্মৃতিরা আজীবনের। আর আজীবন মানুষ বেঁচে থাকে স্মৃতি জমাবে বলেই। কিন্তু কিছু মানুষেরা শুধু স্মৃতি জমাতেই পৃথিবীতে আসে না, স্মৃতির মায়ায় সরলতা গুলে মিশিয়ে দেয় মনকেমনের ঢেউ। হরিনারায়ণপুরের বছর দশেকের হিরুও তা-ই। ও গ্রামের ম্যাজিকাল মানুষগুলোকে নিয়ে বেরিয়ে পড়ে রেলগাড়ি করে এক অচেনা, অদেখা জীবনকে সহজভাবে খুঁজতে। খুঁজে ফেলে চুমু খেলে আঠা ছাড়াই দুটো ঠোঁট আটকে থাকে অনেকক্ষণ। ছায়া এমন এক জিনিস যা জলে পড়লে কোনো ঢেউ তৈরি করে না। আর কেউ-কেউ ফিরেও আসে সাইকেল হয়ে। ফিরে আসলে আবার চলেও যায়।
হিরুর জীবনেও এইসব ম্যাজিকাল মানুষরা আসে, থাকে, থেকেই যায় আবার চলেও যায়; হিরু খালি তাদের নিয়ে তাদের অজান্তেই বানিয়ে ফেলে নিজেই একটা আস্ত স্মৃতির রেলগাড়ি, যাতে থেকে যায় কিছুটা সত্যি, আর বাকিটা সত্যি হলেও গল্প…
গল্প কোথায় থাকে? চা-কফির আড্ডায়, ঘড়ির শাসানি এড়ানো বাজারের ফর্দে, রাতজাগা টেলিফোনে, দুপুরের হেঁশেল থেকে নৌকার ছাওয়ায়। শহরের সীমা থেকে প্রত্যন্ত গ্রামে। গল্প থাকে মাটিতে। সে মাটি কোথাও দিগন্ত রচনা করে, কোথাও সিমেন্টের ফাঁক গলে এগিয়ে দেয় ঘাসফুলের রং। সেই সব খণ্ডমুহূর্তে মাটি বুক পেতে দেয়। এগিয়ে চলে হৃদয়পুর লোকাল। একে-একে সওয়ার হতে থাকে শহুরে মধ্যবিত্ত, মফস্বলের বোকাসোকা চাকুরে, ব্যর্থ সেলসম্যান, অনাবাসী ভারতীয়, সম্বলহীন স্মাগলার, মুখচোরা ডুবুরি, বৃদ্ধ কীর্তনীয়া, মাটির প্রদীপের কারিগর, সুন্দরবনের এক মাঝির পোষা বাঘিনী। সিংভাঙা পাঁঠাকে নিয়ে চড়ে বসে ময়ুরপঙ্খি দলের বাজনদারও। সময়ের বেড়া ডিঙিয়ে হাজির হয় উনিশ শতকের বাবু, মিশরের ফারাও। তাদের টুকরো কথা, হাসি, কান্না, চিৎকারের একফাঁকে ছিটকে আসে দীর্ঘশ্বাস। লাল-নীল-সবুজ-কালোয় রঙিন হয়ে এগিয়ে চলে সেই “হৃদয়পুর লোকাল, একটা তেত্রিশ” সে যাত্রা কামনা-বাসনা, রাগ, লোভ, হিংসা, হতাশা, পাগলামি নেশা ধরায়, না, মসৃণ আমেজ নয়, তারা দিশি, তাদের সর্বাঙ্গে ঝাঁঝ, গন্ধ, হয়তো বা বিষও…
হুমায়ূনের মেধাবী মনন
মুহাম্মদ জিকরাউল হক
প্রচ্ছদশিল্পী – রোকু
বাংলা সাহিত্যের কিংবদন্তি লেখক হুমায়ূন আহমেদ। পাঠকমহলে তাঁর তুঙ্গস্পর্শী জনপ্রিয়তা। বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন শাস্ত্রের অধ্যাপক ছিলেন। শুধুমাত্র লেখালেখি ও সিনেমা পরিচালনা করবেন বলে চাকরি ছেড়ে দেন। লিখেছেন ৩২২টির মতো বই। তিনি বাংলা সাহিত্যে সংলাপপ্রধান নতুন শৈলীর জনক। তৎসঙ্গে আধুনিক বাংলা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির পথিকৃৎ। তাঁর লেখায় একদিকে রয়েছে অভিজাত শ্রেণির কথা, রয়েছে রিকশাচালকদের কথা, বাড়ির চাকরবাকরদের কথা, বেকারদের কথা। গ্রামের কথা যেমন ফুটে উঠেছে তাঁর লেখায়, তেমনি ফুটে উঠেছে শহরের কথাও। আর রয়েছে ধর্মীয়, আর্থিক, সামাজিক, রাজনৈতিক নানান প্রসঙ্গ। শহুরে ভাষার পাশাপাশি স্থান পেয়েছে আঞ্চলিক ভাষা। মোটকথা, সমাজচিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি সচেতন দক্ষতায়।
হুমায়ূন আহমেদ অর্ন্তদৃষ্টি দিয়ে গোটা সমাজকে দেখেছেন। দেখেছেন সমাজের মানুষদের। হাজারো চরিত্র এসে ভিড় করে তাঁর গল্প-উপন্যাসে তাদের স্বতন্ত্রতা নিয়ে। লেখার মধ্যে অনায়াসে আসে রবীন্দ্রনাথ, বঙ্কিমচন্দ্র, শরৎচন্দ্র-সহ দেশি-বিদেশি বহু লেখকের প্রসঙ্গ। আর আসে বাংলা-ইংরেজি প্রবাদ, প্রবচন, ধাঁধা, মনীষীদের বাণী প্রভৃতি। কখনও বা কৌতুক এমনকি ছোটো ছোটো সরস গল্প পর্যন্ত। লেখার মাঝে বাংলা-ইংরেজি কবিতার লাইন উদ্ধৃত করেন সহজাত ভঙ্গিতে। তাঁর লেখালেখির নানান বিষয় নিয়ে একটি সার্বিক আলোচনা এই গ্রন্থ।
বইয়ের কথা
দেবাঞ্জন প্রথম ভূতবাংলোটার কথা শুনেছিল এক ঝড়বৃষ্টির সন্ধেবেলা। ট্রেনে টাটানগর যাওয়ার পথে একজন বয়স্ক লোকের মুখ থেকে। লোকটা কথায় কথায় বলেছিল গোরুমারা জঙ্গলের গভীবে একটা ভাঙা বাংলো আছে। লোকে বলে ওটা ‘হান্টারসাহেবে ভূতব্যাংলো’। শুনেই দেবাংও ঠিক করল অয়নকে নিয়ে যে ভূষ দেখতে যাবে ওই বাংলোটায়। লোকটার মুখ থেকে শুনল, ওই বাংলোয় এখনও হান্টারসাহেবের ভূতের দেখা পাওয়া যায়। খুঁজতে-খুঁজতে লাটাগুড়িতে গিয়ে ওরা দেখা পেয়ে গেল মতিমুকুন্দ খটুয়ার সঙ্গে। গরুমারা জঙ্গলটা তার নখদর্পণে। যে গোরুমারা জঙ্গলের অনেক অজানা খবরও জানে। অন্ধকার ঘনিয়ে আসা এক বিকেলে দেবাংশু আর অয়ন মতিমুকুন্দর সঙ্গে একটা টোটোয় চড়ে চলল গোকুমারা জঙ্গলে সেই বাংলোর খোঁজে। তখন জঙ্গলের মাথায় রূপরূপ করে অন্ধকার নামছে। গভীর জঙ্গলে হান্টারসাহেবের সাদা ঘোড়া বিরহীর সমাধিটা পেথেতেই মতিমুকুন্দ বম মেরে দাঁড়িয়ে পড়ল। তারপর হাত তুলে অ্যাসবেস্টসের বড়-বড় ভাঙা জানলাওলা একচালা বাড়িটা দেখিয়ে ঘড়ঘড়ে বলব, ‘ওই হান্টারসাহেবের ভূতবাংলো’ তারপর।
লেখক পরিচিতি
রতনতনু ঘাটীর জন্ম ১৮৯৫৩ খ্রিস্টাব্দের ৩০ জুন মেদিনীপুরে। বাবা স্বর্ণত সন্তোষকুমার, যা সুভদ্রা। স্নাতকোত্তর পড়াশোনা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দ থেকে আনন্দবাজার পত্রিকায় চাকরি। ২০১৩ খ্রিস্টাব্দে ‘আনন্দমেলা’ পত্রিকার সহ-সম্পাদকের। পদ থেকে অবসর গ্রহণ। একালের জনপ্রিয় শিশুসাহিত্যিক। সত্তরটিরও বেশি বই প্রকাশিত হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত হয়েছে পনেরোটি কিশোরদের বই। ইংরেজি ও ওড়িয়া ভাষায় লেখা অনূদিত হয়েছে। ইতিমধ্যে তাঁর লেখা ভুতের গল্প-উপন্যাস পাঠকদের মন জয় করেছে। ‘কমিকস দ্বীপে টিনটিন’ বইটির জন্যে শিশুসাহিত্যে পেয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ‘উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী পুরস্কার’। পেয়েছেন দ্য এশিয়াটিক সোসাইটি অফ কলকাতা এবং পারুল প্রকাশনীর যৌথ ‘শিশুসাহিত্য পুরস্কার’, হলদিয়া পৌরসভার নাগরিক সংবর্ধনা। পেয়েছেন ‘আন্তজার্তিক রূপসীবাংলা পুরস্কার’, ‘নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী স্মৃতি পুরস্কার’, ‘মেদিনীপুর রত্ন সম্মান’ ছাড়া আরও অনেক পুরস্কার। এ পর্যন্ত লন্ডন, প্যারিস, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ড, জার্মানি, বেলজিয়াম, ভেনিস, ইতালি, রোম, মাউন্ট তিতলিস, সুইজারল্যান্ড, আমস্টারডাম, ব্রাসেলস, বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর অনেক দেশ ভ্রমণ করেছেন।
খুলনার কলাপোতা গ্রামের ইন্দুর বিয়ে হলো কলকাতায়। দোজবরে মাতাল এক পুরুষের সঙ্গে। তিন সন্তান নিয়ে অল্পকালেই বিধবা। তারপর পূর্ব পাকিস্তান যেদিন হলো বাংলাদেশ, সেদিনই ছেনু মিত্তির লেনে প্রথম আঁচ পড়লো ইন্দুবালা ভাতের হোটেলে। এই উপন্যাসে ছেনু মিত্তির লেনের ইন্দুবালা ভাতের হোটেল ছুঁয়ে থাকে এক টুকরো খুলনা আর আমাদের রান্নাঘরের ইতিহাস- মন কেমনের গল্প।
ইতিহাসে জনসংস্কৃতি : পরিসরে উনিশ-বিশ শতক
সম্পাদনা : অমিতাভ চট্টোপাধ্যায়
ইতিহাসে মোড়া পাতিহাল
(সুপ্রকাশ অঞ্চলচর্চা গ্রন্থমালা ১৩)
দীপক দাস
স্থানীয় সংস্কৃতির প্রসারণেই (কেন্দ্র থেকে পরিধির দিকে যাত্রা) একটি অঞ্চলের সাংস্কৃতিক জীবনের লক্ষণগুলির মধ্যে কিছু সাধারণ সাদৃশ্যমূলক সমন্বয় সৃজিত হয়ে ওঠে। সেই সমন্বিত রূপটিই অঞ্চলটির সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যরূপে প্রতিভাত হয়। তাই সংস্কৃতির আঞ্চলিক চেহারাটি একটি দেশের একটি বিশেষ কালের অঙ্গমাত্র নয়- একটি বৃহত্তর সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের ভিত্তিই হল আঞ্চলিক সংস্কৃতি, যা ‘লোকাল কালচারে’র সুরভিত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সমবায়ে গড়ে ওঠে। এই অঙ্গ-প্রতাজের খোঁজেই সুপ্রকাশের অঞ্চলচর্চা গ্রন্থমালার পরিকল্পনা। বক্ষ্যমাণ গ্রন্থটি হাওড়া জেলার জনপদ পাতিহালকে ঘিরে আবর্তিত।
আবার শত্রুর নিশানায় ভারত। বোমা, গুলি, মিসাইল দিয়ে নয়। এমনকী সাইবার-অ্যাটাকও নয়। এবার শত্রু পাঠাল এমন খুনিকে- যাদের চোখে দেখাই যায় না! তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত মাঠে নেমে পড়ল ভারতীয় যোদ্ধারাও। তারপর কী হল?
এশিয়ার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত জুড়ে, গত তিন দশকের নানা মাইলফলক ছুঁয়ে তৈরি হয়েছে এই রুদ্ধশ্বাস থ্রিলার। এ শুধু রোমাঞ্চর স্বাদই দেয় না, সঙ্গে বুঝিয়েও দেয় আজকের বিশ্বরাজনীতির হালহকিকত। আসুন, জাহান্নমের সওদাগরদের সঙ্গে আপনাদের আলাপ করিয়ে দিই।
জঙ্গল, নদী, ঝর্ণা, পাহাড় ও বিপুল খনিজ সম্পদে ভরা প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ডের গড়ে ওঠার নেপথ্যকাহিনি, সেখানকার জনজীবনের নিত্য-নৈমিত্তিক লড়াই ও শোষণের অপূর্ব দলিল এই বই।
বিবাহবিচ্ছিন্না মেয়ে মানেই আড়চোখে দেখার শো পিস। পুরুষের ছুঁয়ে দেখার অলিখিত ছাড়পত্র। নীল ছবির মোহে পুড়ে যায় বয়ঃ সন্ধিকাল। কখনও সময়ের নাগপাশে মিলনও ধর্ষণ হয়ে যায়। সম্পর্কে লাগে রক্তের দাগ। সুপারি কিলারের ছোবল বনাম বাতিল জীবনের মর্মান্তিক আঘাত। খবর আসে, ঝুলে আছে সন্তানের দেহ। কূল ভাঙে মায়ের বুকে। অবৈধ জন্ম যদি অন্যায় হয়, তাহলে অনাহুত প্রাণের মৃত্যুও পাপ। এতো কিছুর পরেও মানুষ বেঁচে থাকে। পচনশীল সমাজে ঘুণ ধরা সম্পর্কে টিকে থাকাও এক সাধনা। ক্লান্ত শরীরে দক্ষিণের ঘরে জিরোতে গিয়ে জেগে ওঠে চেতনা। ঝড়ে হারিয়ে যেতে যেতে ভাঙনের পাশ কাটিয়ে এগিয়ে চলার গল্পই ধরা আছে এই সংকলনে। আসলে এই গল্পগুলো আমাদেরই জীবন থেকে খাবলে তুলে নেওয়া একেকটা হীরক-মুহূর্ত!
Specifications
Binding
Hard Board
পটকথা
মনুষ্য সমাজ গঠনে নারী-পুরুষ সৃষ্টির কথায় মনু তাঁর সংহিতায় (১৩২) লিখেছেন—’স্রষ্টা নিজের দেহ দ্বিধা বিভক্ত করে অর্থভাগে পুরুষ হলেন, অপর অর্ধে নারী হলেন। প্রথম দিকে সন্তান জন্ম বিষয়ে – পুরুষ কার কী ভূমিকা তা মানুষ বুঝে উঠতে পারেনি। মানুষ গোষ্ঠীবদ্ধ হল। গোষ্ঠী বা কৌম ভেঙে যখন পরিবারের সূচনা হয় তখন নারীর উপর পুরুষের স্বত্বাধিকার সমাজ মেনে নেয়।
একটা সময় ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র এই বর্ণে বিভক্ত করা হয়। কর্মানুসারে। ‘ব্রাহ্মণদের জন্য অধ্যাপনা, অধ্যয়ন, যজন যাজন, দান ও প্রতিগ্রহ’ এবং ‘ক্ষত্রিয়ের কর্ম লোকরক্ষা, দান, যজ্ঞ, অধ্যয়ন’ ও “বৈশ্যের কর্ম পশুপালন, দান, যজ্ঞ, অধ্যয়ন, সুদে অর্থ বিনিয়োগ ও কৃষিকর্ম বলা হয়েছে। শূদ্রের কর্মের কথা বলা হয়েছে— তা হল এই সকল বর্ণের অসুয়াহীন সেবা করা’ (মনুসংহিতা ১/৮৮/১১)।
সমাজবন্ধনকে দৃঢ় রাখতে সামাজিক নিয়মে বলে দেওয়া হয়েছিল। “কোনো বর্ণের পুরুষ অন্য বর্ণের স্ত্রীকে বা এক বর্ণের স্ত্রী অন্য বর্ণের পুরুষের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে পারবে না।’ কিন্তু কাম এত প্রবল যে তা আইন করে রক্ষা করা যায়নি। মনু তাঁর সংহিতায় (২/২১৫) জানিয়ে রেখেছেন, ‘মা, বোন বা মেয়ের সঙ্গে শূন্য গৃহাদিতে পুরুষ থাকবে না। শক্তিশালী ইন্দ্রিয়সমূহ বিদ্বান লোককেও বশীভূত করে।’
এই সূত্রে মনে করা যেতে পারে ঋগ্বেদে (১০/৬১/৫, ৭) নাভানেদিষ্ট সূক্তের পিতা-কন্যার অবৈধ সম্পর্ক। ঋগ্বেদে (১০/১০) যম-যমী সংবাদ সূক্তের বিষয় ভাই-বোনের মধ্যে সম্পর্ক। পুরুষের নারীর খোলাখুলি যেমন ভাবে বর্ণনা করা হয়েছে (ঋগ্বেদ ৭/৮০/২), তেমনি সূর্য ঊষার উপপত্তি ‘জারোন’ বারে বারে ব্যবহৃত অংশ থেকে প্রণয়ের চিত্র বহুবার পাওয়া গেছে। ঋগ্বেদে (৭/৫৫/৫-৮) নারী হরণের উল্লেখ রয়েছে, জনৈক পুরুষ প্রেমিকাকে সময় প্রার্থনা করে সমস্ত পরিবার ঘুমে ঘুমিয়ে পড়ে। কুকুরগুলো পর্যন্ত ঘুমিয়ে যাতে সে নির্বিঘ্নে প্রেমিকাকে নিয়ে পালাতে পারে।
বৈদিক পুরুষের অধিকার ছিল একাধিক পত্নী এবং অসংখ্য উপপত্নী রাখা এবং গণিকার কাছে যাবার, স্ত্রীর উপপত্তি রাখার অধিকার ছিল না। উপপতিকে ধ্বংস করার জন্য উপাচার ক্রিয়ার বিধান দেওয়া বৃহদারণ্যক উপনিষদে (৪/৪/১২)। সময় নারীকে রাখা যেত, কেনা যেত, করা যেত, হলেও তখন যৌতুক হিসেবে নারীকে দেওয়া আবার উপহার হিসেবে যেত। উচ্চবর্ণের ব্রাহ্মণদের সবরকম বিধবাবিবাহ ও বহুবিবাহ করার যে অধিকার পেয়েছিল তা পরে হারিয়েছে। আর্যেরা যখন কৃষিজীবী হয়ে পড়ে, তখন জীবন সম্বন্ধে তাদের একটা নতুন দৃষ্টিভঙ্গির সৃষ্টি হয়। তাঁরা বললেন নারী হল ক্ষেত্র, আর
পুরুষ তার মধ্যে বীজ বপন করে। মনু যখন সংহিতা রচনা করেন
তখন তিনিও সেই কথাটিই বলেন এভাবে— ‘নারী ক্ষেত্রস্বরূপ, পুরুষ
বীজস্বরূপ। ক্ষেত্র ও বীজের মিলনে সকল দেহীর উৎপত্তি হয়’ (৯/৩৩)। নারীকে ক্ষেত্ররূপে বর্ণনা করে একই সঙ্গে ব্যভিচারের তথ্যকে জুড়ে দেন এভাবে— ‘এক বীজ যখন উপ্ত করা হয় তখন তাতে অন্য শস্য জন্মে না। যার বীজ উপ্ত হয়, তাই জন্মে’ (৯/৪০)। সুতরাং ‘প্রাজ্ঞ, শিক্ষিত, জ্ঞানবিজ্ঞানজ্ঞ, দীর্ঘায়ুকামী ব্যক্তি কর্তৃক পরস্ত্রীতে বীজ কখনও উপ্ত হওয়া উচিত নয়’ (৯/৪১)। ‘যারা ক্ষেত্রস্বামী নয়, বীজের মালিক, তারা পরের ক্ষেত্রে বীজবপন করলে উৎপন্ন শস্যের মালিক হয় না’ (৯/৪৯)। যেমন অন্যের গাভীতে একশো বাছুর উৎপাদন করলেও সেই বাছুরগুলি গাভীর মালিকেরই হয়। বৃষ স্বামীর নয়। বৃষের যে তা বৃষ স্বামীর পক্ষে নিষ্ফল’ (৯/৫০); ‘তেমনি স্ত্রীর স্বামী-ভিন্ন ব্যক্তি পরস্ত্রীতে বীজবপন করলে যার বীজ সে ফল লাভ করে না’ (৯/৫১); ‘জলের ঢেউ ও বায়ু দ্বারা চালিত বীজ যার ক্ষেত্রে অঙ্কুরিত হবে, সেই বীজ ক্ষেত্রস্বামীরই হবে, বপনকারী ফললাভ করে না’ (১/৫৪)।
ক্ষেত্র-নারী, ক্ষেত্রের ফসল অর্থাৎ অবৈধ সন্তানের মালিকানা ক্ষেত্রস্বামী হিসেবে নারীর। তাই ব্যভিচারের ক্ষেত্রবীজের ফসল দিয়েই পৃথিবীর আদিমতম নতুন সংসার তৈরি হয়ে ছিল—নাম বেশ্যালয়।
ঋগ্বেদ থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত যৌনতা ব্যভিচার নিয়ে তৈরি হয়েছে নানান শব্দ, সম্ভবত সেই সংখ্যা আজ পর্যন্ত একত্রে প্রকাশিত হয়নি, হয়তো বা সেভাবে উদ্যোগও নেওয়া হয়নি। আমরা শুধুমাত্র বৈদিক-যৌনতা বিষয়ের (প্রাচীন সাহিত্যে যৌনাচার বিষয়ক কিছু শব্দ, বর্তমান সময়ের আনোনদোবাজারের অর্থাৎ যেখানে মানুষ আনন্দ করতে আসে, সেই নিষিদ্ধপল্লির কিছু শব্দ এবং সংসার জীবনের যৌনতাবিষয়ক শব্দ নিয়ে তৈরি এই শব্দকোষটি।
গুপ্তচর সংস্থাগুলো তাদের কাজের জন্য সাধারণ মানুষকে ব্যবহার করে কীভাবে, তা এই বইতে লিপিবদ্ধ হয়ে রইল। ঝিঁঝিঁ যেমন বলে, কারো অজান্তেই তাকে কীভাবে একটা জায়গায় অনুপ্রবেশ করানো হয়, তাকে একটার পর একটা নির্দেশ মানতে বাধ্য করা হয়, অপারেশন জন্নত বলল একজন সাধারণ পাকিস্তানি ছেলেকে কাশ্মীরে মিশনে পাঠানোর গল্প।
এই দুই গল্পের আপাতদৃষ্টিতে কোন যোগাযোগ না থাকলেও আদতে এই গল্পদুটো যেন একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। রাষ্ট্রের প্রয়োজনে ইচ্ছে না থাকলেও একজন সাধারণ মানুষকে জড়িয়ে পড়তে হয় নিজের অজান্তেই।
ঝিঁঝিঁ এবং অপারেশন জন্নত তাই আলাদা কাহিনি হয়েও আদতে একই বিষয়ের ওপরে দুটো পৃথক গল্প বলা…
অপারেশন জন্নত-
আরিফকে হঠাৎ করেই করাচি থেকে অন্য শহরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ছেলেটা জানত না তার জন্য কী অপেক্ষা করে আছে। হঠাৎ করে যখন জানতে পারল তাকে আসলে একটা মিশনে রাখা হয়েছে, তার আর পালানোর পথ রইল না।
অপারেশন জন্নত আসলে কী? কেমন ছিল ছেলেটির অভিজ্ঞতা? অপারেশন জন্নত সে কাহিনিই বলে।
ঝিঁঝিঁ-
মাথার কাছে হঠাৎ করে ঝিঁঝিঁ পোকা ডেকে উঠল। কীভাবে এ পোকা ডেকে উঠল, কিছুতেই বুঝে উঠতে পারেনি ছেলেটা। ক্রমাগত নির্দেশ আসতে শুরু করল ঝিঁঝিঁ পোকাদের মাধ্যমে। ঠিক কোন ঠিকানায় নিয়ে চলল তাকে এই পোকারা?
জানার জন্য পড়তে হবে ঝিঁঝিঁ।
কাগের ডিম বগের ডিম
শর্মিলা বসু ঠাকুর, অহনা দত্ত
প্রচ্ছদ- সেঁজুতি বন্দ্যোপাধ্যায়
মান্দাস থেকে প্রকাশিত হয়েছে শর্মিলা বসু ঠাকুর এবং অহনা দত্তের গ্রন্থ ‘কাগের ডিম বগের ডিম’।
তালশাঁসের সুপ, রাইস ন্যুডলস উইথ গোলাপখাস, উচ্ছে-আলুভাতে ভাজা, ধূম্র পক্ক মাটন- এমন অনন্ত নামের লিস্ট দেওয়া যেতে পারে যার গল্প এবং রেসিপি আছে এই বইতে। নামগুলো দেখে একটু ধন্দে পড়তে হয় বইকি। চেনা কিন্তু চেনা নয়। ফিউশন? তাও তো মনে হচ্ছে না। আসলে এই বইয়ের বেশির ভাগ রেসিপিই মা-মেয়ের মস্তিষ্কপ্রসূত। রোজকার সহজলভ্য উপকরণেও ম্যাজিক। নতুন সাজে, নতুন ভাবনায় বাঙালি তথা ভারতীয় খাবারের বিশ্বায়ন এই বই, ‘কাগের ডিম বগের ডিম’। ঝঞ
তৎক্ষণাৎ জিভ কাটিল পাঁচুগোপাল। “ছুডো বুনডার কিরে কত্তা, আর কুনও প্যাঁচ নাই। যজ্ঞা এককালে বোষ্টম হইছিল, অহন কালী-কেষ্ট দুই-ই ভজে। আর তাইতেই বাবুগো গোঁসা। তেনারা ‘পিতা পিতা’ কইরা চোখের জল ফেলেন, আর যজ্ঞায় ‘মা মা’ কইরা চ্যাল্লায়। তাবৎ প্যাচাল ওই সাকার আর নিরাকারে, নইলে আর কুনও কাউর নাই।”
-“হুঁ, বুঝলাম।” বলিলাম বটে, কিন্তু এই বোঝা লইয়া আমি কী করিব, তাহা সহসা স্থির করিতে পারিলাম না। কেবল মনে হইল, এতদিনে যেন কিঞ্চিৎ আলোর সন্ধান পাইয়াছি। যে চক্রব্যূহ এযাবৎ দুর্ভেদ্য বলিয়া বোধ হইতেছিল, আজ স্বয়ং নিয়তি যেন পাঁচুগোপালের বেশ ধরিয়া তাহাতে একখানি ছিদ্রের সন্ধান করিয়া দিয়াছেন। “তা বাপু পাঁচুগোপাল, তুমি কোন দলে? সাকার না নিরাকার?”
-“আইজ্ঞা কত্তা, মুই বেকার।”
-“অ্যাঁ! কী বললি?”
-“মোর কুনও ইষ্ট নাই কত্তা।” ব্যাখ্যা করিল পাঁচু, “প্যাটের ক্ষুধা মোর যম, হেই যমের হাত থিকা যিনি মোরে রক্ষা করবেন— তিনিই ইষ্ট, তিনিই গুরু। হ, এককালে আমি হেই দলের লবণ খাইছি, হাচচইও কথা। কইলোম, হেই কৃতজ্ঞতা কোলে কইরা বইসা থাকলে তো আর মোর চলব না।”
-“আরেকবার ভেবে জবাব দে, পাঁচু। যজ্ঞা তোর ছোটবেলার স্যাঙাত আমাদের কথামত কাজ করলে হয়ত একদিন তোর জন্যই সেই যজ্ঞার কোমরে দড়ি পরবে। অবশ্য তার জন্য যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ তুই পাবি।” হাতের ইশারায় বিশদ করিলাম আমার বক্তব্য, “কিন্তু তোর বিবেক আবার কামড়াতে আসবে না তো? দেখিস পাঁচু, এ-কাজে একবার নেমে পড়লে কিন্তু আর পিছিয়ে আসার উপায় নেই। লেগে থাকলে পুরষ্কার যেমন পাবি, মাঝপথে পিঠটান দিলে তিরষ্কারটাও কিন্তু সইতে হবে তোকেই।”
পাঁচুগোপাল এতক্ষণ হাঁটু মুড়িয়া বসিয়া ছিল, তাহার যুক্ত করদ্বয় ঝুলিয়া ছিল বক্ষের সম্মুখে। এইবার সেই একই ভঙ্গিতে সে উঠিয়া দাঁড়াইল, কহিল “যজ্ঞা কইছিল, হে জীবদ্দশায় মোর থোতমা আর দেখব না। তা আইজ রাতে যদি মোর বাপেরে ফের কাশে ধরে, কাশতে কাশতে হে জাইগা থাকে রাতভর, আর কাশের দমকে দলা দলা রক্ত বাহির হয় তার মুখ থিকা, তহন কি যজ্ঞা আইসা তারে নিরাময় করব? মিছা কথা কমু না কত্তা— মুই যজ্ঞারে তহনও একসের ভালা পাইতাম, অহনও পাই। তা হে যজ্ঞা মোর হোগায়ই লাতাক, আর গালে চুমাই খাক। তার নাহান দোস্ত মুই এ-জীবনে আর দ্বিতীয়টি পাই নাই— এ-কথা মুই ঘাটে উইঠাও মানব। কইলোম, কর্মফল খণ্ডাইবার আমি কেডা? যজ্ঞার কর্মফল যদি তারে উচ্ছন্নে নিয়া যায়, তো মুই তারে বাধা দিই কেমনে কন দেহি?”
ফেলে আসা সময়ের কলকাতা নিয়ে নতুন করে আবার একটা বই, মানেই সেখানে নতুন তথ্য এসেছে, এমন নয়। বরং নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনাকে বিশ্লেষণ, বর্তমান সময়ের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করার চেষ্টা এই বই। চটজলদি যোগাড় করে পরিবেশন করা তথ্য নয়, পুরোনো সময়ে লেখার নতুন করে টিপ্পনি করাও নয়, বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে অতীতকে ফিরে দেখা, অল্প আলোচিত কিছু টুকরো ঘটনার পুনর্নির্মাণ করার চেষ্টা এটি। ইতিহাস যে শুধু ফিসফিস করে কথা বলে না, বর্তমান সময়ের নিকটতম প্রতিচ্ছবি হয়ে বিরাজ করে, সেকথা প্রমাণের চেষ্টাও রয়েছে অবশ্য। কলমের গুণমান কিংবা মসৃণ পাঠের আগাম নিশ্চয়তা না থাকলেও, পাঠকের কৌতূহল বাড়ানোর গ্যারান্টি থাকছেই
Kalimayer Boma : Abhishek Chattopadhyay
Pages : 112
কালীমায়ের বোমা : অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
সারাংশ : অগ্নিযুগে বাংলার জটীল রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি, সশস্ত্র সংগ্রামকে যে পথে চালিত করেছিল, তার অন্যতম অনুষঙ্গ ছিল শক্তি আরাধনা। তাই সেই গুপ্তসমিতির গোপন অস্ত্র কারখানাও আশীর্বাদ চেয়েছিল বঙ্গীয় ধর্ম অভ্যাসে শক্তির স্বরূপ, দেবী কালিকার কাছে। সেই সূত্রেই, তাঁদের তৈরি ইংরেজ প্রশাসনের ঘুম কেড়ে নেওয়া বোমার নাম হয়েছিল ‘কালীমায়ের বোমা’। অভিষেক চট্টোপাধ্যায়ের নিবিড় ও অনুসন্ধিৎসু কলমে সেই বিস্মৃত ইতিহাসের যুগোপযোগী অনুসন্ধান।
ভাগ্যের ফেরে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করা তিন শিক্ষার্থী, আধুনিক চাষি হতে চলে আসে গ্রামে। উত্তরবঙ্গের এই গ্রাম এখনও উত্তরাধুনিকতার ছোঁয়া পায়নি। হ্যাঁ, স্মার্ট ফোন সবার হাতে আছে। তবে সেই স্মার্ট ফোনে অন্যের স্মার্টনেস দেখা আর নিজে স্মার্ট হবার মধ্যে ঢের তফাৎ।
এরই মধ্যে ওদের তিনজনকে এমন এক ঘটনার সামনে পড়তে হয় তাতে সকল প্রকার আধুনিকতার ভিত নড়ে ওঠে শিহাবের। চোখের সামনে বান্ধবীর সঙ্গে ঘটে যাওয়া অদ্ভুত ঘটনা দেখে কিছুতেই সেসবকে উড়িয়ে দিতে পারে না শিহাব। গ্রামের মনু মাস্টারের ক্ষমতার পরিচয় পেয়ে আগ্রহ বেড়ে যায় তার। একটু চেষ্টাতেই সে আলাপ জমিয়ে ফেলে প্রায় নিঃসঙ্গ মনু মাস্টারের সঙ্গে।
মনু মাস্টারের কাছ থেকেই শিহাব শুনতে পায় লাল মিয়া ফকিরের নাম। সেই ছয় পুরুষ আগের ফকিরের ক্ষমতা এখনও ব্যবহার করে চলেছে মনু মাস্টার। লাল মিয়া ফকিরের আলোচনায় ওরা চলে যায় দেড়শ বছর পেছনের সেই প্রাচীন বাংলায়।
তখন লাল মিয়া ফকিরের বাল্যকাল। ফকিরি ও তন্ত্রের দুনিয়ায় কেবল তার পথচলা শুরু হয়েছে। হঠাৎ করে সেই অঞ্চলে হারিয়ে যেতে থাকে আট থেকে দশ বছরের বালকেরা, হারিয়ে যাবার কিছুদিন পরে পাওয়া যায় তাদের প্রাণহীন শক্ত দেহ। কিন্তু কোনোরকম আঘাতের চিহ্ন সেই দেহে থাকে না। রূপগড়ের জমিদার সুখেন মজুমদার রোগশয্যা ছেড়ে হঠাৎ স্বাভাবিক চেহারায় কীভাবে বেরিয়ে আসেন? পিশাচ-সিদ্ধ মহা শক্তিশালী তান্ত্রিক নিশিকান্তের ক্ষমতা এবার কোন পিশাচকে জাগাতে ব্যবহৃত হচ্ছে? রূপগড়ে অন্দরে নিয়মিত গুমরে ওঠে কার কান্না ধ্বনি? ধীরে ধীরে আলোকে ক্রমশ সংকুচিত করে চলে অন্ধকার।
লাল মিয়া ফকির ছেলেমানুষ। কিন্তু একসময় সেই ঘন কালো অন্ধকারের সামনে সে ছাড়া দাঁড়ানোর মতো আর কেউ রইল না। বালক লাল মিয়া ফকির কি পারবে, সেই অন্ধকারের রেশ মুছে দিয়ে ভোরের আলো ফোটাতে?
ফের জ্বলছে কাশ্মীর। চারদিকে রক্তের গন্ধ। মৃত্যুর মিছিল ভূস্বর্গে। চিনারের বন পেরিয়ে যে হাওয়া সর্বাঙ্গ ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায় সে হাওয়ায় আজ তীব্র বারুদের গন্ধ। সে হাওয়া অন্য এক ভারতের তীক্ষ্ণ হাহাকার আর সর্বগ্রাসী ক্ষোভের কথকতা শুনিয়ে যায়! কাশ্মীর মানে, বিধ্বস্ত নিরাপত্তা, সম্মান। ভূমিপুত্রদের সকলের নাম একযোগে অঘোষিত জঙ্গি তালিকায় তুলে দেওয়া! রাস্তায় বেরোলেই পদে পদে তল্লাশি আর উর্দিধারীদের শরীর ও চোখের চাউনি থেকে ঝরে পড়া অপমান। জনজীবন বিপর্যন্ত হওয়াটা তো বাইরে থেকে চোখে পড়ে! গোটা মানবজমিন যে তছনছ হয়ে যাচ্ছে, তা আমার ‘নিরাপদ’ আশ্রয়ে বসে টের পাই কই। এই ভূস্বর্গে দমবন্ধ হয়ে আসে!
ম্যাও এর পর আসছে স্বয়ম্ভু সেনের দ্বিতীয় রহস্য কাহিনি ” কথাকলি কোথায়?”
এম এল এ সোমেন সরকার, একসময় শিশুপাচারের সঙ্গে নাম জড়িত থাকলেও প্রমাণ মেলেনি। গুপ্ত খবর, এখন মেয়েপাচারের সঙ্গেও নাকি যুক্ত। তাঁরই একমাত্র মেয়ে কথাকলি। নিরুদ্দেশ। পাচারকারীর মেয়েই পাচার হয়ে গেল? নাকি খুন? পালিয়েও যেতে পারে। কিন্তু কেন? দায়িত্ব বর্তাল গোয়েন্দা স্বয়ম্ভু সেনের কাঁধে। রহস্যের কানাগলি বেয়ে ছুটতে ছুটতে কেঁচো খুঁড়তে বেরিয়ে এল কালসাপ। কে? কেন? কীভাবে খেলছে? খেলার মধ্যে চলছে নাকি অন্য খেলা? এ শহরের কাছে গোয়েন্দা স্বয়ম্ভু হয়ে উঠল পর্নস্টার। আরও মর্মান্তিক, সহকারী শিবাঙ্গী বসুর শ্লীলতাহানি!
Jyotirmoy Bhattacharya
Ekalavya
978-81-983525-9-0
২৭৬ পৃষ্ঠা। হার্ডব্যাক, জ্যাকেট।
শিল্পকলা
Khodai Chitrakosh Unish Shataker Banglar granthachitran
উনিশ বছর পর আসতে শুরু করল অদ্ভুত সব চিঠি। আইনজীবী আহমেদ মুনতাসির তপুর অতীত খুঁড়ে বের করছে কেউ।
উনিশ বছর আগে গাজীপুরে এক রিজর্ট থেকে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল তার কয়েকজন বন্ধু। এদের মধ্যে ছিল তার বোনও। তার লাশ পাওয়া যায়নি। লাশ পাওয়া যায়নি বন্ধু রাহাত শরিফেরও।
উনিশ বছর পর পাওয়া গেল নিখোঁজ রাহাতের লাশ। নাম পাল্টে এত দিন বেঁচে ছিল সে! তাহলে কি তপুর বোন রাত্রিও বেঁচে আছে?
উনিশ বছর আগে তপুকে ছেড়ে গিয়েছিল অদিতি। অনেক চেষ্টা করেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি, হঠাৎ তার জীবনে নতুন করে আবির্ভূত হলো সে।
কেন?
কারাই বা খুঁড়ে বের করছে তার পরিবারের গোপন এক ইতিহাস?
সন ১৭৫১। বাবার মৃত্যুর পর শুভাকাঙ্খী মি. ক্যাম্বেলের পরামর্শে ডেভিড ব্যালফুর রওনা দেয় শ জমিদারবাড়ির উদ্দেশে। মনে আশা, বাপ-মা হারা হতভাগ্য জীবনে যদি একটু হাল ফেরে। কিন্তু ইষ্টদেবতা যে অন্য কিছু পরিকল্পনা করে রেখেছিলেন ডেভিডের জন্য!
ভাগ্যের চাকা ঘোরে ঠিকই, কিন্তু তার ইচ্ছানুসারে নয়। ঘটনাচক্রে ডেভিডের জীবন জড়িয়ে যায় রাজদ্রোহের অভিযোগে অভিযুক্ত অ্যালান স্টুয়ার্ট ব্রেকের সঙ্গে। এদিকে অ্যালানও ডেভিডের কাহিনি জানতে পেরে তাকে তার লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর। কিন্তু কীভাবে হবে সেই অসাধ্য সাধন?
ডেভিড ব্যালফুরের সেই বিচিত্র অভিযান নিয়েই স্কটল্যান্ডের পটভূমিকায় রবার্ট লুই স্টিভেনসনের ইতিহাসাশ্রয়ী উপন্যাস ‘কিডন্যাপড’।
Klanto Uter Cholachol
Prithwi Basu
ক্লান্ত উটের চলাচল
Mandas
Bengali book
কবিতার রান্নাঘর কবিদের ঘরবাড়ি
সোমব্রত সরকার
পার্থ দাশগুপ্ত চিত্রিত
সে এক আশ্চর্য দিনকাল! কলেজ পড়ুয়া তরুণের চারপাশে ছড়ানো বুদ্ধদেব বসুর চিঠি, বিষ্ণু দে-র থেকে উপহার পাওয়া বই, মোহিতলাল মজুমদারের চিঠি, কবিতা ও বঙ্গদর্শন পত্রিকা। বনানী বাড়িতে জীবনানন্দের সই করা বই দেখার উন্মাদনা ও উল্লাস-প্রণবেন্দু দাশগুপ্ত, মণিভূষণ ভট্টাচার্য কবিতা পড়ছেন। দেবারতি মিত্র, দেবীপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়, রণজিৎ সিংহ-পুরনো সময়, পার হওয়া স্মৃতি। অমিতাভ গুপ্তের বই বেরোচ্ছে, দেবদাস আচার্যকে ঘিরে মৃদুল দাশগুপ্ত, জয় গোস্বামী, নির্মল হালদার। দেবকুমার বসুর বাড়িতে মলাট-ভাঙা শক্তি, বিনয়ের কাব্যগ্রন্থ-প্রথম অফসেটে ছাপা বইয়ের নাড়াচাড়া-১৯৪৭ সাল। দুপুরবেলা খেতে বসা দেবকুমার বসুর স্ত্রীর হাতের সুস্বাদু রান্না-পোলাও, মাংস, ধনেপাতা চিংড়ি মাছ দিয়ে বাটা, মোচা, কইমাছ।
যোগিয়া বাড়ির রাশভারী মণীন্দ্র গুপ্ত, পুনে থেকে ডাকে আসা রাজলক্ষ্মী দেবীর কবিতা, গীতা চট্টোপাধ্যায়ের বনেদি বাড়ি, সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায় লাল বাড়ি, শঙ্খ ঘোষের ঈশ্বরনিবাস। কল্যাণীর রাস্তায় হেঁটে চলা বীরেন্দ্রনাথ-ধোঁয়া ওঠা গরম বোঁদে, শান্তিপুরে ফল্গু বসুর বাড়ি। রমেন্দ্রকুমার আচার্যচৌধুরীর চলে যাওয়া, পূর্ববঙ্গের স্মৃতি-ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সুসঙ্গ-দুর্গাপুর। কোগ্রামে কুমুদরঞ্জনের বাড়ি-অষ্টমীতে বলির মাংস রান্না। মনকেমনের অনবদ্য চিঠি-অশোক মিত্র, অশ্রুকুমার সিকদার, সমবয়সীদের কলতান-পত্রিকা, প্রেম, ব্যথা ও বিচ্ছেদ। অগ্রজদের হাতে ধরে শেখানো ছন্দ। এ বই ফেলে আসা সিকি শতাব্দীর কবিতার রান্নাঘর, কবিদের ঘরবাড়ির জীবন্ত অন্দরসজ্জা।
Specifications
Binding
Hard Board
Publishing Year
2025
2025
0.5kg
Author – Pinaki Biswas | পিনাকী বিশ্বাস
Publication – Khori Prakashani
Weight
0.8 kg
Dimensions
21 × 18 × 2 cm
Author Name
SOURAV GUHA
Language
BENGALI
Binding
Hardcover
Pages
232
Publisher
BLACKLETTERS
Publishing Year
2025
Binding
Hard Cover
Publisher
Amar Bharati
Year of Publication
2023
একদিকে দিল্লির ক্ষমতার সৌজন্যে বাংলায় সংঘ পরিবারের বিপুল বিস্তার, হিন্দুত্ববাদী উগ্রতা ও মুসলিম-বিদ্বেষের স্বাভাবিকীকরণ, আরেকদিকে ১৫ বছরের শাসনকালে ভুরিভুরি দুর্নীতির অভিযোগ ঘাড়ে নিয়ে চলা ‘মুসলিম-তোষণকারী’ তৃণমূলের মন্দির-রাজনীতি। ধর্মের ধোঁয়ায় পাপ ঢাকার এক অদ্ভুত জালে জড়িয়ে গিয়েছে বাংলার রাজনীতি। হালে পানি পাচ্ছে না বাম-কংগ্রেসের তৃতীয় শক্তি হয়ে ওঠার প্রচেষ্টাও। কোথা থেকে, কীভাবে আমরা এখানে এলাম?
Khori Prakashani
0.5kg
Publication – Shabdo Prokashon
Author – Tamoghna Naskar
Weight – 0.4kg
Binding – Hard Bound
কৃষ্ণপক্ষ
কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প, হাড়ের বাঁশি আর ভয়ের গদ্যমালা।
অর্ক চক্রবর্ত্তী-র লেখায় ভয় ধরা দিয়েছে কাব্যিক সৌন্দর্য নিয়ে। বুকের রক্ত কেঁপে ওঠা ভয় নয় বরং ওঁর লেখা জুড়ে আতঙ্ক, বীভৎসতা, ভয় ধরা দিয়েছে স্নিগ্ধ শীতল বাতাসের মত যাতে অনায়াসেই ভেসে যাবেন পাঠক। লেখার মাধুর্য এমনই যাতে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ার পরেও এর রেশ থেকে যায় বহুদিন। সাধারণত ভয়ের বই একবার পড়ার জন্যই উপযুক্ত হয়। খুব কম ভয়ের বইই পাঠক বারবার পড়েন। ‘কৃষ্ণশর্বরী’ তেমনই বারবার পড়ার উপযুক্ত বিরল গোত্রের এক ভয়ের বই। দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি, এই বই পাঠ করার পর এর রেশ থেকে বেরোতে পাঠকের বহুদিন সময় লাগবে।
কুমারী রানির ডাক্তার
মৈত্রী রায় মৌলিক
ষোড়শ শতকের ইংল্যান্ড। বিজ্ঞান শব্দটি তখনও অজানা। ইংল্যান্ডের রাজনৈতিক ভূগোলের সঙ্গে তখনও যুক্ত হয়নি স্কটল্যান্ড আর আয়ারল্যান্ড। এই সময় ইংল্যান্ডের রাজমুকুট উঠল পঁচিশবর্ষীয়া এক প্রোটেস্ট্যান্ট নারীর মাথায় যাঁর নাম এলিজাবেথ টুডর।
এলিজাবেথ টুডরের চুয়াল্লিশ বছরের রাজত্বে ইংল্যান্ড পৌঁছে যায় স্বর্ণযুগের দোরগোড়ায়। গোটা ইউরোপে তখন বিজ্ঞান-চেতনার প্রদোষকাল। দর্শন থেকে বিজ্ঞানকে ছেঁকে বের করতে হবে, ব্রহ্মাণ্ড অসীম, পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘোরে ইত্যাদি কথা প্রচার করতে চাইছেন ব্রুনো, গ্যালেলিও, ব্রাহের মতো পণ্ডিতেরা। অপরদিকে রোমান চার্চ এইসব নতুন চিন্তাধারাকে প্রশ্রয় দিতে নারাজ, তারা পুরনো ধারণা আঁকড়ে রাখতে চায়।
এই উত্তাল আবহাওয়ায় ইংল্যান্ডে, বিজ্ঞান-চেতনার সূচনা হয় এক প্রথিতযশা ডাক্তারের পরীক্ষালব্ধ গবেষণার মাধ্যমে যাঁর নাম উইলিয়াম গিলবার্ট। জীবনের শেষ তিনটি বছর রানি এলিজাবেথের রাজচিকিৎসক ছিলেন ড. গিলবার্ট। চুম্বক এবং ইলেকট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং গবেষণার প্রথম ধাপ তৈরি করেছিলেন ড. গিলবার্ট। ইউরোপে জ্ঞানচেতনার উন্মেষ যার উৎসে আছে ত্রিধারা— গিলবার্ট, ব্রুনো আর গ্যালেলিও। কেমনভাবে মিশে ছিল এই তিন ধারা? আধুনিক বিজ্ঞানের সূচনাকাল স্যর আইজ্যাক নিউটনের সময় শুরু হলেও জ্ঞানচর্চার উৎসমুখ আরও একশো বছর আগেকার। ষোড়শ শতকের জ্ঞানচর্চার তিন প্রাণপুরুষ গিলবার্ট, ব্রুনো এবং গ্যালেলিওর মধ্যে যিনি সর্বাপেক্ষা কম পরিচিত সেই উইলিয়াম গিলবার্টকে নিয়ে উপন্যাস ‘কুমারী রানির ডাক্তার’।
স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডে মহিলাদের শামিল হতে তখনও দু’দশক দেরি। ভিক্টোরিয়ান সাহিত্যের পাতায় বেসরকারি পেশাদার গোয়েন্দা হিসেবে রাজত্ব করছেন শার্লক হোমস। সেই সময়েই ক্যাথরিন লুইসা পার্কিসের কলমে হাজির লেডি লাভডে ব্রুক। ফ্লিট স্ট্রিটের এক বেসরকারি গোয়েন্দার অফিসে তাঁর চাকরি। লাভডে তাঁর অফিস থেকে আন্দাজ আধঘণ্টার দূরত্বে বসে থাকা গোয়েন্দাচূড়ামণিকে টেক্কা দেওয়ার ক্ষমতা রাখতেন বলেই মনে করতেন তাঁর পাঠকরা। ‘দ্য লাডগেট ম্যাগাজিন’-এ প্রকাশিত হওয়া এই ‘গোয়েন্দানি’র সাতটি কাহিনির বাইরে আর কোনও কাহিনির সন্ধান মেলে না। সেই সব কাহিনি একত্র করে বাংলায় প্রথমবার প্রকাশিত হল ‘লেডি লাভডে ব্রুক সমগ্র’।
মদের চাট জোগাতে আলস্য করায়, বিশ্বম্ভরের তাড়া খেয়ে পিছলে পড়ে মারা যায় তাঁর গর্ভিনী স্ত্রী হিরণ। মৃত্যুকালে সে প্রসব করে তাঁদের কন্যা সন্তান টুকী-কে। অনাদরে অবহেলায় বড়ো হচ্ছিল টুকী। ভগ্নীপতী লালমোহনের বাড়ি যাওয়ার পথে নৌকায় বিশ্বম্ভর উত্তম নাম্নী বেশ্যাকে দেখতে পেয়ে মুগ্ধ হয়ে পড়ে। তাঁকে বিয়ে করে ঘরে তোলে। পাড়া-পড়শীর নজর আর বক্রোক্তি পেল উত্তম। আর টুকী পেল মা। সময় গড়িয়ে চলল…
এক বেশ্যার জীবনকাহিনি নির্ভর, মানব মনের এক গহীন, জটিল, অদ্ভুত, মনস্তাত্ত্বিক এই উপন্যাস।
কথায় বলে, ‘লক্ষ্মী-শ্রী’ -কী বোঝায়, একথা দিয়ে?
বস্তুত, ‘লক্ষ্মী’ আর্থে অতুল ধন-সম্পদ-ঐশ্বর্য; আর ‘শ্রী’ অর্থে অনির্বচনীয় লাবণ্য-সৌন্দর্য ও ধীর-স্থির অচলভাব। উভয় মিলে ‘লক্ষ্মী-শ্রী’।
ভারতবর্ষে, স্মরণাতীত কাল ধরে এই ‘লক্ষ্মী-শ্রী’ ভাবনার রেশ চলেছে নানাভাবে, নানান বিভঙ্গে।।
হিন্দু-বৌদ্ধ-জৈন, ভারতবর্ষের এই তিনটি প্রধানতম ও প্রাচীনতম ধর্মধারায় বাক্যপথাতীত রূপও লাবণ্য, অপরিসীম ধন ও ঐশ্বর্য এবং প্রাণময় ও প্রাণপ্রদ অন্ন-এ সকলের প্রতিভূ ও প্রতীকরূপে গণ্য হয়েছেন ‘শ্রী-লক্ষ্মী’ তথা দেবী লক্ষ্মী।
হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে, ভারতবর্ষে, মার্গ ধর্ম ও লোকধর্ম, মার্গ-সংস্কৃতি ও চিরায়ত লোকসংস্কৃতি, এবং ইতিহাসের অঙ্গনে, দেবী লক্ষ্মী অবিরামভাবে পদচারণা করে চলেছেন। ‘লক্ষ্মীর পা-চালি’ গ্রন্থে তারই চমকপ্রদ ও আকর্ষণীয় বিবরণ।
বাঙলার লোকমানসে ও লোকসাংস্কৃতিক জগতে, বাঙালির গৃহাঙ্গনে ‘লক্ষ্মীর পা-চালি’ সম্পর্কে ইতিপূর্বে কোনো গ্রন্থ প্রকাশিত হয়নি। মধ্যযুগীয় বাঙলা কাব্যাদিতে ধান-চাল-অন্নের, কবিগণ প্রদত্ত বিচিত্র বিবরণ, এ যাবৎ সম্পূর্ণ অজ্ঞাতই আছে বলা চলে। এসবের বিস্তৃত বিবরণ দানের পাশাপাশি রয়েছে বাঙলার কৃষি-অর্থনীতিতে এবং প্রবাদ-প্রবচন তথা সমাজজীবনে ধান-চালের ভূমিকার কথা।
লিঙ্গসন্ত্রাস’ গ্রন্থটির স্বকীয়তা এখানেই। নিছক সমাজের দৃশ্যগ্রাহ্য বৈষম্য ও হিংস্রতা বা ধর্মকে গালাগালি নয়; সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্মভাবে সূত্রনির্দেশ করে নারী ও শিশুর প্রতি হিংসার বিবিধ সংজ্ঞা, সারাবিশ্বে অদ্যাবধি নথিভুক্ত নারীনিগ্রহগুলির শ্রেণিবিভাগ ও বর্ণনা, সামাজিক ও বাণিজ্যিক অনুমোদন পেয়ে যাওয়া কিছু কদাচারকে লিঙ্গহিংসা হিসাবে শনাক্তকরণ এবং তৎসহ লেখিকার ক্ষুরধার বিশেষণ এই বইটিকে শুধু মনুষ্যত্ববাদের স্তম্ভ নয়, অ্যাকাডেমিক উৎকর্ষের একটি শিখরেও পরিণত করেছে। সুদীর্ঘ ১৪ বছর লিঙ্গবিজ্ঞান নিয়ে নিরলস তপস্যা যে গূঢ়তর সত্য উদ্ঘাটন করেছে, তার অন্যতম উপজাত ফল হল, ‘লিঙ্গসন্ত্রাস’।
ইতিহাসের সঙ্গে অতীতের সম্পর্ক খুবই নিবিড়। কিন্তু সেই অতীতের উপাদানে যদি ভয় মিশে থাকে, যদি সেই ফেলে আসা ইতিকথাগুলোয় অলৌকিক রোমাঞ্চ মিলে থাকে, যদি সেই ধোঁয়াশাময় অচেনা অজানা ইতিবৃত্তগুলোয় ভৌতিক উপাদান জড়িয়ে থাকে তাহলে কেমন হয় বলুন তো!!
‘ লক্ষ্মী ‘ এমনই দশটি ইতিহাস নির্ভর অলৌকিক (ভৌতিক) গল্পের সংকলন, যার পরতে পরতে ছড়িয়ে রয়েছে ঐতিহাসিক ঘটনাবলী কিন্তু ভয়ের মোড়কে। আর এই ইতিহাস বয়ে নিয়ে বেরিয়েছে কখনো নিষ্পেষিত সাঁওতাল বিদ্রোহের নেতারা, বাংলার দুর্ধর্ষ ডাকাতেরা, ব্রিটিশ কলকাতার সাহেবরা, বিস্মৃত জমিদার বাড়ির দন্ড মুন্ডের কর্তারা কিংবা তন্ত্র মন্ত্রের অপদেবতারা।
এবার অপেক্ষা আপনাদের ভয় পাওয়ানোর।
‘ ঐতিহাসিক ভয় ‘ !! আপনারা তৈরি তো ?
লেখক পরিচিতি:
এই সময়ের কমিকস্-রচয়িতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একজন শিল্পী। তার সৃষ্ট ‘রাপ্পা রায়’ চরিত্রটি ইতিমধ্যেই ভীষণই জনপ্রিয়। এছাড়া অন্যান্য মজার গল্প নিয়েও তার অসামান্য সমস্ত কাজ রয়েছে।
আমেরিকায় চাকরি করতে গিয়ে এমন বিপদে পড়তে হবে ঝিলিক ভাবেনি। একটা পথ দুর্ঘটনায় মাথায় চোট লাগার পরেই ওর জীবনে সংকট নেমে এসেছে। নিজের ইচ্ছায় ঝিলিক কোনও কাজ করতে পারছে না। এমনকী খিদে-তেষ্টা কিংবা ঘুম এসব জৈবিক প্রবৃত্তির ওপর ওর আর নিজের নিয়ন্ত্রণ নেই। ঝিলিককে পরিচালনা করছে অন্য কেউ, তার হাতে রয়েছে ঝিলিকের মস্তিষ্কের নিয়ন্ত্রণ। এখন কী করবে ঝিলিক? ওর মগজ কারা দখল করে নিয়েছে? তাদের কাছ থেকে সে কি ফেরত পাবে নিজের চুরি-যাওয়া মন আর শরীরের অধিকার?
খোঁজা থামিয়ে দিলেই পাবার আশা নিঃশেষ হয়ে যায়। নর্মদার সামনে বসে পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে ভাবতে বাধ্য হয় রুদ্রদেব আর অসিত। সমুদ্র সম্পর্কে তাদের কোন জ্ঞান নেই। এখানে গুরু শিষ্যের বিষয় খাটবে না, দুজনেই নবিশ। তবু অসিতকে এগিয়ে যেতেই হবে। অঙ্গদকে উদ্ধার না করে সে ফিরে যাবে না। রুদ্রদেবও শিষ্যকে ত্যাগ করতে পারে না। শিক্ষা শেষ হবার আগে কোন গুরুই শিষ্যকে ত্যাগ করে না।
ওদিকে রাহু অঙ্গদকে নিয়ে জাহাজে চেপে বসেছে। পশ্চিমে নিজের পরিচিত বন্দরের অভাব নেই। সেগুলোর একটাতে থিতু হয়ে বসেই অঙ্গদকে নিয়ে নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের পরিকল্পনা করে চলেছে সে। কিন্তু বিধির চিন্তা হয়তো অন্যরকম। রাহুর মতো লোকের তো আর পৃথিবীতে অভাব নেই। চলার পথে রাহু বুঝতে পারে, অঙ্গদের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছে লোকে। কেউ কেউ তো অঙ্গদকে পাবার জন্য তার প্রাণ নিতেও পেছপা হবে না।
রোমান সাম্রাজ্যের দখলে আছে পুরো গ্রীস আর ভূমধ্যসাগরের চারিদিকের অঞ্চল। রোমান সম্রাট ট্রাজানের শাসনে সাম্রাজ্যের কোথাও কোন সমস্যা মাথাচাড়া দিতে পারছে না। তবে পরাধীন গ্রীসের বাতাসে মাঝে মাঝে শোনা যায় স্বাধীনতার কানাকানি। আলেকজান্ডারের উত্তরসূরিরা নিজেদের এই অবস্থা কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না। নিজেদের সিংহসম সাহস মাঝে মাঝে জেগে উঠতে চায়। বিদ্রোহের লক্ষণ দেখা দেয় স্পার্টার আকাশে বাতাসে।
ইভানের স্বাধীনতা নিয়ে তেমন মাথাব্যথা নেই। গ্রীসের অভিজাত সেনাদলে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করে অভিজাত সুবিধা নিয়ে জীবন কাটাতে পারলেই হলো। সেই লক্ষ্যেই স্পার্টার সেরা যোদ্ধা হবার পথে এগিয়ে চলেছে সে। কিন্তু হঠাৎ করে বদলে যায় তার জীবন। প্রেম জোয়ার বইয়ে দেয় তার জীবন নদীতে। আর, প্রেম কখনোই কাউকে অবিকৃত রাখে না।
স্পার্টার দুর্গম পাহাড়ে জেগে ওঠার অপেক্ষায় আছে এক অমোঘ শক্তি। টিয়ার অব এপোলোর অপেক্ষায় কাল কেটে যাচ্ছে তার। সে কি জেগে উঠবে গ্রীসের স্বাধীনতার ভাগ্যবিধাতা হয়ে?
আপাত সম্পর্কহীন ঘটনাগুলো শেষে মিলে গেলো একই বিন্দুতে। মহাকালের পথে শুরু হলো এক রোমাঞ্চকর মহাযাত্রা।
মহারাজ সাতকর্ণী সাতবাহন রাজ্যের সম্রাট। লোকে বলে তিনিই এই বংশের সবচেয়ে যোগ্য রাজা। রাজ্য চারিদিকে বেড়ে এখন পুরো মধ্য ভারতই তার আয়ত্তে এসে গেছে। কিন্তু সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে অন্য জায়গায়। পুব থেকে লোকজন আসছে ভারতে বাণিজ্য করতে। তিনিও সেই বাণিজ্যে অংশ নিয়েছেন। কিন্তু তার বন্দরগুলোতে ভিনদেশী জাহাজগুলো আসছে না। খা খা করছে তার বন্দরগুলো। এই সমস্যার সমাধান করতেই হবে। লক্ষ্মী বিদায় নিয়ে রাজা আর রাজ্য যে শ্রী হারিয়ে ফেলবে। নিজের মন্ত্রীর সাথে সেই পরিকল্পনাই করতে বসেছেন তিনি।
ঠিক সেই সময়ে যে রাজা ভারতে চুটিয়ে বাণিজ্য করছেন, তার নাম নাহাপনা। পশ্চিম শক রাজ্যের এই রাজা নিজের বাণিজ্য নিয়ে সন্তুষ্ট। তবে নিশ্চিন্ত থাকার উপায় নেই। তিনি জানেন, মধ্য ভারত অধিকার করে সাতবাহন রাজ্যের সীমা এখন তার রাজ্যের উপকণ্ঠে চলে এসেছে। আর তার এই ছোট কিন্তু অতুল সমৃদ্ধ রাজ্য অবশ্যই সাতকর্ণীর শকুন নজর এড়াবে না। তাই শত্রু আঘাত করার আগেই শত্রুকে পাকে ফেলতে হবে। নিজের মন্ত্রীর সাথে তিনিও ব্যস্ত সেই উপায় নির্ধারণে।
দক্ষিণ ভারত তিন রাজ্যে বিভক্ত। চেরা, চোলা আর পাণ্ড্য। তিন রাজ্যই একে অপরের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে আসছে প্রাচীন কাল থেকে। তবে এখন চেরা রাজ্যের অবস্থা ভালো। তার বন্দর মুঝিরিস ব্যবসায় অনেক ভালো করছে। তারও ভয় মহারাজ সাতকর্ণীকে। চোলা রাজ্যে এসেছেন নতুন রাজা। তাকেও থাকতে হচ্ছে ভেতরের আর বাইরের শত্রুর ভয়ে। পাণ্ড্য রাজা বাণিজ্যিক চুক্তি করেছেন চেরাদের সাথে, তবে তিনিও চাচ্ছেন না অন্য কারো দয়ায় বেঁচে থাকতে।
এসব রাজ্যগত ঝামেলার ভেতরে নেই অসিত। সে এক সাধারণ কিশোর। নিজের খেলা দেখানোর বানর আর গ্রামের অন্য মানুষদের কখনো আদর আর কখনো শাসনে কেটে যাচ্ছে তার জীবন। বনের ধারে একটা কেবল কুটির, আর কিছু খেলা দেখানোর সামগ্রী, এই তার সম্বল। তারপর আচমকা একদিন নতুন এক সম্পত্তি হাতে চলে এলো তার। নতুন সম্পত্তির সাথে এলো নতুন সম্ভাবনা, আর সেই সাথে এলো নতুন বিপদও। জীবন বদলে গেলো তার।
এক অভিশপ্ত পুরুষ রাতের অন্ধকারে ঘুরে বেড়াচ্ছে নানা মন্দিরে। দিনে কখনোই সে ঘর থেকে বের হয় না। নিত্য আরাধনা করে চলেছে সে, কিন্তু কিছুতেই নিজের শাপের হাত থেকে মুক্ত হতে পারছে না। তবু চেষ্টা করে চলেছে, মহাকাল কি তাকে দয়া করবে? তার শাস্তির মেয়াদ কি শেষ হবে?
বিন্দুমাত্র সম্পর্কহীন বিন্দুগুলো এক সময় এসে মিলে গেলো এক বিন্দুতে। মহাকাল দেখাতে শুরু করলো নিজের খেলা।
Specifications
Binding
Hard board
Publishing Year
2023
অঙ্গদকে ফিরে পাবার হিসেব মিলিয়ে নিজের ভূমির দিকে এক গতিতে ফিরে আসছে অসিত। ভেতরে ভেতরে একটা আতঙ্ক দানা বেঁধে উঠছে তার। দেশ ছেড়ে এসেছে কম দিন তো হয়নি। গ্রামের কেউই তো তার সাফল্যের ব্যাপারে আশান্বিত ছিল না। যদি, রাধার মা এরই মধ্যে রাধার হাত অন্য কারো হাতে তুলে দিয়ে থাকেন, তাহলে তো সব পেয়েও কিছুই পাওয়া হবে না অসিতের। ক্রমাগত পথ চলছে সে রুদ্রদেবকে নিয়ে, সাথে জপছে ঈশ্বরের নাম। কিন্তু, অসিতের বিন্দুমাত্র ধারণা নেই, সে যেভাবে আর্যাবর্তকে রেখে গিয়েছিল, আর্যাবর্ত এখন আর সেই অবস্থায় নেই। রাজনীতি অনেক ভাবেই পাল্টে ফেলেছে নিজের গতি পথ। চেরা রাজা উথিয়ানের মৃত্যুর পর ভেরাপ্পন এখন রাজা হবার স্বপ্নে বিভোর। তার সেই পথে বাধা কেবল রানি নলিনী ও রাজপুত্র নিদাম। তবে সেসব বাধাকে সহজেই এড়িয়ে যাবার পরিকল্পনা চলছে ভেরাপ্পনের মাথায়। সিংহাসন কি আসলেই এতো সহজে হস্তগত হবে? চোলায় শান্তি ফিরে এসেছে। প্রজারা এবার চাইছে রাজা কারিকালার বামপাশের আসনে রানি লক্ষ্মী হয়ে বসুক। রানির সন্ধান করছে কারিকালা। তবে সেই সন্ধান কি আদৌ এত কণ্টক বর্জিত হবে? শকদের সম্পদের হাতছানিতে মহারাজ সাতকর্ণী অবস্থান করছেন উজ্জয়িনীতে। ওদিকে অবহেলায় পড়ে আছে তার রাজধানী প্রতিষ্ঠানা। শাসকের অনুপস্থিতিতে ধীরে ধীরে রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ছে অরাজকতা। মহাবলের কথা মনে আছে? যে সামন্ত যুবরাজ অঙ্গদকে আগুনে ফেলেছিল। সে পিতার মৃত্যুর পর রাজা হয়েছে। তারপর বসেছে অত্যাচারের পশরা সাজিয়ে। মহাপ্রস্থান সকল হিসেব মেলানোর পথ। সে হিসেবের কাছে পৃথিবীর সকল হিসেব গৌণ, এতো কঠিন গণিত কোন গণিতের বইয়ে খুঁজে পাওয়া যাবে না। তবে আশার কথা একটাই। ‘মহাকাল কখনও কোনও হিসেব বাকি রাখে না’।









