Weight
0.5 kg
Dimensions
21 × 18 × 2 cm
Author Name
Brun sen
ISBN
9789392216930
Language
Bengali
Publisher
Mousumi
Publishing Year
2025
হেশোরাম হুঁশিয়ারের ডায়েরি
কাহিনী — সুকুমার রায়
চিত্ররূপ — চার্বাক দীপ্ত
প্রফেসর হেশোরাম হুঁশিয়ারের গল্পের মধ্যে দিয়ে খুঁজে পাওয়া যায় এক অন্য সুকুমার রায়কে যিনি এই রচনায় খেয়াল রসের বাইরে গিয়ে অ্যাডভেঞ্চার ও অজানার প্রতি টানে ডুব দিয়েছিলেন। নানা আজগুবি জন্তু ও আশ্চর্য চরিত্রের সমারোহে এমন অভিযানের কাহিনি সেকালের বাংলা সাহিত্যে বিরল ছিল। এমনকী পরবর্তীকালে সুকুমারপুত্র সত্যজিৎ রায় তাঁর প্রফেসর শঙ্কু চরিত্রের বীজ খুঁজে পেয়েছিলেন এই হেশোরাম হুঁশিয়ারের মধ্যেই। বন্দাকুশ পাহাড়ে সেই দুঃসাহসিক কালজয়ী অভিযানের কাহিনি এবার চার্বাক দীপ্তর তুলিতে জীবন্ত হয়ে নতুন রূপে কমিকসের আকারে এসে গেল।
Weight
0.5 kg
Dimensions
21 × 18 × 2 cm
Author Name
Brun sen
ISBN
9789392216930
Language
Bengali
Publisher
Mousumi
Publishing Year
2025
Specifications
Binding
Hard Board
Publishing Year
2025
Pages
320
ক্রোধ, ঘৃণা, প্রেম, প্রতিশোধ, উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং শক্তি— সবকিছুরই পরিণতি হিংস্রতা। হিংসা সত্যই কেবল আরও হিংসা ডেকে আনে।
এ হল এমন দুই মানুষের কাহিনী, যারা সম্পূর্ণ পৃথক প্রেক্ষাপট থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। কিন্তু দুজনেই যাত্রাপথ শেষ করে রাস্তায় হিংস্রতার সুদীর্ঘ চিহ্ন রেখে গিয়ে।
সর্বকালের সেরা যোদ্ধা হয়ে ওঠার উচ্চাকাঙ্ক্ষা এই দুই মানুষকে টেনে নিয়ে যায় নিষিদ্ধ অরণ্য— নিনগুয়ানি-তে। এই অরণ্য রহস্য আর কিংবদন্তিতে ঢাকা। শুধু প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বয়ে চলে এক আশ্চর্য কিংবদন্তি। এই অরণ্যই সর্বশ্রেষ্ঠ যোদ্ধা বেছে নেওয়ার জন্য নির্বাচিত ক্ষেত্র— যুদ্ধদেবতা।
তারা কি সফল হবে? কে হয়ে উঠবে যুদ্ধদেবতা, আর পাশাপাশি যুদ্ধ করে যাবে নিজেরই অতীত থেকে উঠে আসা দানবের সঙ্গে?
স্মৃতিরা আজীবনের। আর আজীবন মানুষ বেঁচে থাকে স্মৃতি জমাবে বলেই। কিন্তু কিছু মানুষেরা শুধু স্মৃতি জমাতেই পৃথিবীতে আসে না, স্মৃতির মায়ায় সরলতা গুলে মিশিয়ে দেয় মনকেমনের ঢেউ। হরিনারায়ণপুরের বছর দশেকের হিরুও তা-ই। ও গ্রামের ম্যাজিকাল মানুষগুলোকে নিয়ে বেরিয়ে পড়ে রেলগাড়ি করে এক অচেনা, অদেখা জীবনকে সহজভাবে খুঁজতে। খুঁজে ফেলে চুমু খেলে আঠা ছাড়াই দুটো ঠোঁট আটকে থাকে অনেকক্ষণ। ছায়া এমন এক জিনিস যা জলে পড়লে কোনো ঢেউ তৈরি করে না। আর কেউ-কেউ ফিরেও আসে সাইকেল হয়ে। ফিরে আসলে আবার চলেও যায়।
হিরুর জীবনেও এইসব ম্যাজিকাল মানুষরা আসে, থাকে, থেকেই যায় আবার চলেও যায়; হিরু খালি তাদের নিয়ে তাদের অজান্তেই বানিয়ে ফেলে নিজেই একটা আস্ত স্মৃতির রেলগাড়ি, যাতে থেকে যায় কিছুটা সত্যি, আর বাকিটা সত্যি হলেও গল্প…
গল্প কোথায় থাকে? চা-কফির আড্ডায়, ঘড়ির শাসানি এড়ানো বাজারের ফর্দে, রাতজাগা টেলিফোনে, দুপুরের হেঁশেল থেকে নৌকার ছাওয়ায়। শহরের সীমা থেকে প্রত্যন্ত গ্রামে। গল্প থাকে মাটিতে। সে মাটি কোথাও দিগন্ত রচনা করে, কোথাও সিমেন্টের ফাঁক গলে এগিয়ে দেয় ঘাসফুলের রং। সেই সব খণ্ডমুহূর্তে মাটি বুক পেতে দেয়। এগিয়ে চলে হৃদয়পুর লোকাল। একে-একে সওয়ার হতে থাকে শহুরে মধ্যবিত্ত, মফস্বলের বোকাসোকা চাকুরে, ব্যর্থ সেলসম্যান, অনাবাসী ভারতীয়, সম্বলহীন স্মাগলার, মুখচোরা ডুবুরি, বৃদ্ধ কীর্তনীয়া, মাটির প্রদীপের কারিগর, সুন্দরবনের এক মাঝির পোষা বাঘিনী। সিংভাঙা পাঁঠাকে নিয়ে চড়ে বসে ময়ুরপঙ্খি দলের বাজনদারও। সময়ের বেড়া ডিঙিয়ে হাজির হয় উনিশ শতকের বাবু, মিশরের ফারাও। তাদের টুকরো কথা, হাসি, কান্না, চিৎকারের একফাঁকে ছিটকে আসে দীর্ঘশ্বাস। লাল-নীল-সবুজ-কালোয় রঙিন হয়ে এগিয়ে চলে সেই “হৃদয়পুর লোকাল, একটা তেত্রিশ” সে যাত্রা কামনা-বাসনা, রাগ, লোভ, হিংসা, হতাশা, পাগলামি নেশা ধরায়, না, মসৃণ আমেজ নয়, তারা দিশি, তাদের সর্বাঙ্গে ঝাঁঝ, গন্ধ, হয়তো বা বিষও…
হুমায়ূনের মেধাবী মনন
মুহাম্মদ জিকরাউল হক
প্রচ্ছদশিল্পী – রোকু
বাংলা সাহিত্যের কিংবদন্তি লেখক হুমায়ূন আহমেদ। পাঠকমহলে তাঁর তুঙ্গস্পর্শী জনপ্রিয়তা। বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন শাস্ত্রের অধ্যাপক ছিলেন। শুধুমাত্র লেখালেখি ও সিনেমা পরিচালনা করবেন বলে চাকরি ছেড়ে দেন। লিখেছেন ৩২২টির মতো বই। তিনি বাংলা সাহিত্যে সংলাপপ্রধান নতুন শৈলীর জনক। তৎসঙ্গে আধুনিক বাংলা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির পথিকৃৎ। তাঁর লেখায় একদিকে রয়েছে অভিজাত শ্রেণির কথা, রয়েছে রিকশাচালকদের কথা, বাড়ির চাকরবাকরদের কথা, বেকারদের কথা। গ্রামের কথা যেমন ফুটে উঠেছে তাঁর লেখায়, তেমনি ফুটে উঠেছে শহরের কথাও। আর রয়েছে ধর্মীয়, আর্থিক, সামাজিক, রাজনৈতিক নানান প্রসঙ্গ। শহুরে ভাষার পাশাপাশি স্থান পেয়েছে আঞ্চলিক ভাষা। মোটকথা, সমাজচিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি সচেতন দক্ষতায়।
হুমায়ূন আহমেদ অর্ন্তদৃষ্টি দিয়ে গোটা সমাজকে দেখেছেন। দেখেছেন সমাজের মানুষদের। হাজারো চরিত্র এসে ভিড় করে তাঁর গল্প-উপন্যাসে তাদের স্বতন্ত্রতা নিয়ে। লেখার মধ্যে অনায়াসে আসে রবীন্দ্রনাথ, বঙ্কিমচন্দ্র, শরৎচন্দ্র-সহ দেশি-বিদেশি বহু লেখকের প্রসঙ্গ। আর আসে বাংলা-ইংরেজি প্রবাদ, প্রবচন, ধাঁধা, মনীষীদের বাণী প্রভৃতি। কখনও বা কৌতুক এমনকি ছোটো ছোটো সরস গল্প পর্যন্ত। লেখার মাঝে বাংলা-ইংরেজি কবিতার লাইন উদ্ধৃত করেন সহজাত ভঙ্গিতে। তাঁর লেখালেখির নানান বিষয় নিয়ে একটি সার্বিক আলোচনা এই গ্রন্থ।
বইয়ের কথা
দেবাঞ্জন প্রথম ভূতবাংলোটার কথা শুনেছিল এক ঝড়বৃষ্টির সন্ধেবেলা। ট্রেনে টাটানগর যাওয়ার পথে একজন বয়স্ক লোকের মুখ থেকে। লোকটা কথায় কথায় বলেছিল গোরুমারা জঙ্গলের গভীবে একটা ভাঙা বাংলো আছে। লোকে বলে ওটা ‘হান্টারসাহেবে ভূতব্যাংলো’। শুনেই দেবাংও ঠিক করল অয়নকে নিয়ে যে ভূষ দেখতে যাবে ওই বাংলোটায়। লোকটার মুখ থেকে শুনল, ওই বাংলোয় এখনও হান্টারসাহেবের ভূতের দেখা পাওয়া যায়। খুঁজতে-খুঁজতে লাটাগুড়িতে গিয়ে ওরা দেখা পেয়ে গেল মতিমুকুন্দ খটুয়ার সঙ্গে। গরুমারা জঙ্গলটা তার নখদর্পণে। যে গোরুমারা জঙ্গলের অনেক অজানা খবরও জানে। অন্ধকার ঘনিয়ে আসা এক বিকেলে দেবাংশু আর অয়ন মতিমুকুন্দর সঙ্গে একটা টোটোয় চড়ে চলল গোকুমারা জঙ্গলে সেই বাংলোর খোঁজে। তখন জঙ্গলের মাথায় রূপরূপ করে অন্ধকার নামছে। গভীর জঙ্গলে হান্টারসাহেবের সাদা ঘোড়া বিরহীর সমাধিটা পেথেতেই মতিমুকুন্দ বম মেরে দাঁড়িয়ে পড়ল। তারপর হাত তুলে অ্যাসবেস্টসের বড়-বড় ভাঙা জানলাওলা একচালা বাড়িটা দেখিয়ে ঘড়ঘড়ে বলব, ‘ওই হান্টারসাহেবের ভূতবাংলো’ তারপর।
লেখক পরিচিতি
রতনতনু ঘাটীর জন্ম ১৮৯৫৩ খ্রিস্টাব্দের ৩০ জুন মেদিনীপুরে। বাবা স্বর্ণত সন্তোষকুমার, যা সুভদ্রা। স্নাতকোত্তর পড়াশোনা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দ থেকে আনন্দবাজার পত্রিকায় চাকরি। ২০১৩ খ্রিস্টাব্দে ‘আনন্দমেলা’ পত্রিকার সহ-সম্পাদকের। পদ থেকে অবসর গ্রহণ। একালের জনপ্রিয় শিশুসাহিত্যিক। সত্তরটিরও বেশি বই প্রকাশিত হয়েছে। বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত হয়েছে পনেরোটি কিশোরদের বই। ইংরেজি ও ওড়িয়া ভাষায় লেখা অনূদিত হয়েছে। ইতিমধ্যে তাঁর লেখা ভুতের গল্প-উপন্যাস পাঠকদের মন জয় করেছে। ‘কমিকস দ্বীপে টিনটিন’ বইটির জন্যে শিশুসাহিত্যে পেয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ‘উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী পুরস্কার’। পেয়েছেন দ্য এশিয়াটিক সোসাইটি অফ কলকাতা এবং পারুল প্রকাশনীর যৌথ ‘শিশুসাহিত্য পুরস্কার’, হলদিয়া পৌরসভার নাগরিক সংবর্ধনা। পেয়েছেন ‘আন্তজার্তিক রূপসীবাংলা পুরস্কার’, ‘নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী স্মৃতি পুরস্কার’, ‘মেদিনীপুর রত্ন সম্মান’ ছাড়া আরও অনেক পুরস্কার। এ পর্যন্ত লন্ডন, প্যারিস, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ড, জার্মানি, বেলজিয়াম, ভেনিস, ইতালি, রোম, মাউন্ট তিতলিস, সুইজারল্যান্ড, আমস্টারডাম, ব্রাসেলস, বাংলাদেশ সহ পৃথিবীর অনেক দেশ ভ্রমণ করেছেন।
খুলনার কলাপোতা গ্রামের ইন্দুর বিয়ে হলো কলকাতায়। দোজবরে মাতাল এক পুরুষের সঙ্গে। তিন সন্তান নিয়ে অল্পকালেই বিধবা। তারপর পূর্ব পাকিস্তান যেদিন হলো বাংলাদেশ, সেদিনই ছেনু মিত্তির লেনে প্রথম আঁচ পড়লো ইন্দুবালা ভাতের হোটেলে। এই উপন্যাসে ছেনু মিত্তির লেনের ইন্দুবালা ভাতের হোটেল ছুঁয়ে থাকে এক টুকরো খুলনা আর আমাদের রান্নাঘরের ইতিহাস- মন কেমনের গল্প।
ইতিহাসে জনসংস্কৃতি : পরিসরে উনিশ-বিশ শতক
সম্পাদনা : অমিতাভ চট্টোপাধ্যায়
ইতিহাসে মোড়া পাতিহাল
(সুপ্রকাশ অঞ্চলচর্চা গ্রন্থমালা ১৩)
দীপক দাস
স্থানীয় সংস্কৃতির প্রসারণেই (কেন্দ্র থেকে পরিধির দিকে যাত্রা) একটি অঞ্চলের সাংস্কৃতিক জীবনের লক্ষণগুলির মধ্যে কিছু সাধারণ সাদৃশ্যমূলক সমন্বয় সৃজিত হয়ে ওঠে। সেই সমন্বিত রূপটিই অঞ্চলটির সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যরূপে প্রতিভাত হয়। তাই সংস্কৃতির আঞ্চলিক চেহারাটি একটি দেশের একটি বিশেষ কালের অঙ্গমাত্র নয়- একটি বৃহত্তর সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের ভিত্তিই হল আঞ্চলিক সংস্কৃতি, যা ‘লোকাল কালচারে’র সুরভিত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সমবায়ে গড়ে ওঠে। এই অঙ্গ-প্রতাজের খোঁজেই সুপ্রকাশের অঞ্চলচর্চা গ্রন্থমালার পরিকল্পনা। বক্ষ্যমাণ গ্রন্থটি হাওড়া জেলার জনপদ পাতিহালকে ঘিরে আবর্তিত।
আবার শত্রুর নিশানায় ভারত। বোমা, গুলি, মিসাইল দিয়ে নয়। এমনকী সাইবার-অ্যাটাকও নয়। এবার শত্রু পাঠাল এমন খুনিকে- যাদের চোখে দেখাই যায় না! তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত মাঠে নেমে পড়ল ভারতীয় যোদ্ধারাও। তারপর কী হল?
এশিয়ার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত জুড়ে, গত তিন দশকের নানা মাইলফলক ছুঁয়ে তৈরি হয়েছে এই রুদ্ধশ্বাস থ্রিলার। এ শুধু রোমাঞ্চর স্বাদই দেয় না, সঙ্গে বুঝিয়েও দেয় আজকের বিশ্বরাজনীতির হালহকিকত। আসুন, জাহান্নমের সওদাগরদের সঙ্গে আপনাদের আলাপ করিয়ে দিই।
জঙ্গল, নদী, ঝর্ণা, পাহাড় ও বিপুল খনিজ সম্পদে ভরা প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ডের গড়ে ওঠার নেপথ্যকাহিনি, সেখানকার জনজীবনের নিত্য-নৈমিত্তিক লড়াই ও শোষণের অপূর্ব দলিল এই বই।
বিবাহবিচ্ছিন্না মেয়ে মানেই আড়চোখে দেখার শো পিস। পুরুষের ছুঁয়ে দেখার অলিখিত ছাড়পত্র। নীল ছবির মোহে পুড়ে যায় বয়ঃ সন্ধিকাল। কখনও সময়ের নাগপাশে মিলনও ধর্ষণ হয়ে যায়। সম্পর্কে লাগে রক্তের দাগ। সুপারি কিলারের ছোবল বনাম বাতিল জীবনের মর্মান্তিক আঘাত। খবর আসে, ঝুলে আছে সন্তানের দেহ। কূল ভাঙে মায়ের বুকে। অবৈধ জন্ম যদি অন্যায় হয়, তাহলে অনাহুত প্রাণের মৃত্যুও পাপ। এতো কিছুর পরেও মানুষ বেঁচে থাকে। পচনশীল সমাজে ঘুণ ধরা সম্পর্কে টিকে থাকাও এক সাধনা। ক্লান্ত শরীরে দক্ষিণের ঘরে জিরোতে গিয়ে জেগে ওঠে চেতনা। ঝড়ে হারিয়ে যেতে যেতে ভাঙনের পাশ কাটিয়ে এগিয়ে চলার গল্পই ধরা আছে এই সংকলনে। আসলে এই গল্পগুলো আমাদেরই জীবন থেকে খাবলে তুলে নেওয়া একেকটা হীরক-মুহূর্ত!
Specifications
Binding
Hard Board
পটকথা
মনুষ্য সমাজ গঠনে নারী-পুরুষ সৃষ্টির কথায় মনু তাঁর সংহিতায় (১৩২) লিখেছেন—’স্রষ্টা নিজের দেহ দ্বিধা বিভক্ত করে অর্থভাগে পুরুষ হলেন, অপর অর্ধে নারী হলেন। প্রথম দিকে সন্তান জন্ম বিষয়ে – পুরুষ কার কী ভূমিকা তা মানুষ বুঝে উঠতে পারেনি। মানুষ গোষ্ঠীবদ্ধ হল। গোষ্ঠী বা কৌম ভেঙে যখন পরিবারের সূচনা হয় তখন নারীর উপর পুরুষের স্বত্বাধিকার সমাজ মেনে নেয়।
একটা সময় ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য, শূদ্র এই বর্ণে বিভক্ত করা হয়। কর্মানুসারে। ‘ব্রাহ্মণদের জন্য অধ্যাপনা, অধ্যয়ন, যজন যাজন, দান ও প্রতিগ্রহ’ এবং ‘ক্ষত্রিয়ের কর্ম লোকরক্ষা, দান, যজ্ঞ, অধ্যয়ন’ ও “বৈশ্যের কর্ম পশুপালন, দান, যজ্ঞ, অধ্যয়ন, সুদে অর্থ বিনিয়োগ ও কৃষিকর্ম বলা হয়েছে। শূদ্রের কর্মের কথা বলা হয়েছে— তা হল এই সকল বর্ণের অসুয়াহীন সেবা করা’ (মনুসংহিতা ১/৮৮/১১)।
সমাজবন্ধনকে দৃঢ় রাখতে সামাজিক নিয়মে বলে দেওয়া হয়েছিল। “কোনো বর্ণের পুরুষ অন্য বর্ণের স্ত্রীকে বা এক বর্ণের স্ত্রী অন্য বর্ণের পুরুষের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করতে পারবে না।’ কিন্তু কাম এত প্রবল যে তা আইন করে রক্ষা করা যায়নি। মনু তাঁর সংহিতায় (২/২১৫) জানিয়ে রেখেছেন, ‘মা, বোন বা মেয়ের সঙ্গে শূন্য গৃহাদিতে পুরুষ থাকবে না। শক্তিশালী ইন্দ্রিয়সমূহ বিদ্বান লোককেও বশীভূত করে।’
এই সূত্রে মনে করা যেতে পারে ঋগ্বেদে (১০/৬১/৫, ৭) নাভানেদিষ্ট সূক্তের পিতা-কন্যার অবৈধ সম্পর্ক। ঋগ্বেদে (১০/১০) যম-যমী সংবাদ সূক্তের বিষয় ভাই-বোনের মধ্যে সম্পর্ক। পুরুষের নারীর খোলাখুলি যেমন ভাবে বর্ণনা করা হয়েছে (ঋগ্বেদ ৭/৮০/২), তেমনি সূর্য ঊষার উপপত্তি ‘জারোন’ বারে বারে ব্যবহৃত অংশ থেকে প্রণয়ের চিত্র বহুবার পাওয়া গেছে। ঋগ্বেদে (৭/৫৫/৫-৮) নারী হরণের উল্লেখ রয়েছে, জনৈক পুরুষ প্রেমিকাকে সময় প্রার্থনা করে সমস্ত পরিবার ঘুমে ঘুমিয়ে পড়ে। কুকুরগুলো পর্যন্ত ঘুমিয়ে যাতে সে নির্বিঘ্নে প্রেমিকাকে নিয়ে পালাতে পারে।
বৈদিক পুরুষের অধিকার ছিল একাধিক পত্নী এবং অসংখ্য উপপত্নী রাখা এবং গণিকার কাছে যাবার, স্ত্রীর উপপত্তি রাখার অধিকার ছিল না। উপপতিকে ধ্বংস করার জন্য উপাচার ক্রিয়ার বিধান দেওয়া বৃহদারণ্যক উপনিষদে (৪/৪/১২)। সময় নারীকে রাখা যেত, কেনা যেত, করা যেত, হলেও তখন যৌতুক হিসেবে নারীকে দেওয়া আবার উপহার হিসেবে যেত। উচ্চবর্ণের ব্রাহ্মণদের সবরকম বিধবাবিবাহ ও বহুবিবাহ করার যে অধিকার পেয়েছিল তা পরে হারিয়েছে। আর্যেরা যখন কৃষিজীবী হয়ে পড়ে, তখন জীবন সম্বন্ধে তাদের একটা নতুন দৃষ্টিভঙ্গির সৃষ্টি হয়। তাঁরা বললেন নারী হল ক্ষেত্র, আর
পুরুষ তার মধ্যে বীজ বপন করে। মনু যখন সংহিতা রচনা করেন
তখন তিনিও সেই কথাটিই বলেন এভাবে— ‘নারী ক্ষেত্রস্বরূপ, পুরুষ
বীজস্বরূপ। ক্ষেত্র ও বীজের মিলনে সকল দেহীর উৎপত্তি হয়’ (৯/৩৩)। নারীকে ক্ষেত্ররূপে বর্ণনা করে একই সঙ্গে ব্যভিচারের তথ্যকে জুড়ে দেন এভাবে— ‘এক বীজ যখন উপ্ত করা হয় তখন তাতে অন্য শস্য জন্মে না। যার বীজ উপ্ত হয়, তাই জন্মে’ (৯/৪০)। সুতরাং ‘প্রাজ্ঞ, শিক্ষিত, জ্ঞানবিজ্ঞানজ্ঞ, দীর্ঘায়ুকামী ব্যক্তি কর্তৃক পরস্ত্রীতে বীজ কখনও উপ্ত হওয়া উচিত নয়’ (৯/৪১)। ‘যারা ক্ষেত্রস্বামী নয়, বীজের মালিক, তারা পরের ক্ষেত্রে বীজবপন করলে উৎপন্ন শস্যের মালিক হয় না’ (৯/৪৯)। যেমন অন্যের গাভীতে একশো বাছুর উৎপাদন করলেও সেই বাছুরগুলি গাভীর মালিকেরই হয়। বৃষ স্বামীর নয়। বৃষের যে তা বৃষ স্বামীর পক্ষে নিষ্ফল’ (৯/৫০); ‘তেমনি স্ত্রীর স্বামী-ভিন্ন ব্যক্তি পরস্ত্রীতে বীজবপন করলে যার বীজ সে ফল লাভ করে না’ (৯/৫১); ‘জলের ঢেউ ও বায়ু দ্বারা চালিত বীজ যার ক্ষেত্রে অঙ্কুরিত হবে, সেই বীজ ক্ষেত্রস্বামীরই হবে, বপনকারী ফললাভ করে না’ (১/৫৪)।
ক্ষেত্র-নারী, ক্ষেত্রের ফসল অর্থাৎ অবৈধ সন্তানের মালিকানা ক্ষেত্রস্বামী হিসেবে নারীর। তাই ব্যভিচারের ক্ষেত্রবীজের ফসল দিয়েই পৃথিবীর আদিমতম নতুন সংসার তৈরি হয়ে ছিল—নাম বেশ্যালয়।
ঋগ্বেদ থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত যৌনতা ব্যভিচার নিয়ে তৈরি হয়েছে নানান শব্দ, সম্ভবত সেই সংখ্যা আজ পর্যন্ত একত্রে প্রকাশিত হয়নি, হয়তো বা সেভাবে উদ্যোগও নেওয়া হয়নি। আমরা শুধুমাত্র বৈদিক-যৌনতা বিষয়ের (প্রাচীন সাহিত্যে যৌনাচার বিষয়ক কিছু শব্দ, বর্তমান সময়ের আনোনদোবাজারের অর্থাৎ যেখানে মানুষ আনন্দ করতে আসে, সেই নিষিদ্ধপল্লির কিছু শব্দ এবং সংসার জীবনের যৌনতাবিষয়ক শব্দ নিয়ে তৈরি এই শব্দকোষটি।
কাগের ডিম বগের ডিম
শর্মিলা বসু ঠাকুর, অহনা দত্ত
প্রচ্ছদ- সেঁজুতি বন্দ্যোপাধ্যায়
মান্দাস থেকে প্রকাশিত হয়েছে শর্মিলা বসু ঠাকুর এবং অহনা দত্তের গ্রন্থ ‘কাগের ডিম বগের ডিম’।
তালশাঁসের সুপ, রাইস ন্যুডলস উইথ গোলাপখাস, উচ্ছে-আলুভাতে ভাজা, ধূম্র পক্ক মাটন- এমন অনন্ত নামের লিস্ট দেওয়া যেতে পারে যার গল্প এবং রেসিপি আছে এই বইতে। নামগুলো দেখে একটু ধন্দে পড়তে হয় বইকি। চেনা কিন্তু চেনা নয়। ফিউশন? তাও তো মনে হচ্ছে না। আসলে এই বইয়ের বেশির ভাগ রেসিপিই মা-মেয়ের মস্তিষ্কপ্রসূত। রোজকার সহজলভ্য উপকরণেও ম্যাজিক। নতুন সাজে, নতুন ভাবনায় বাঙালি তথা ভারতীয় খাবারের বিশ্বায়ন এই বই, ‘কাগের ডিম বগের ডিম’। ঝঞ
তৎক্ষণাৎ জিভ কাটিল পাঁচুগোপাল। “ছুডো বুনডার কিরে কত্তা, আর কুনও প্যাঁচ নাই। যজ্ঞা এককালে বোষ্টম হইছিল, অহন কালী-কেষ্ট দুই-ই ভজে। আর তাইতেই বাবুগো গোঁসা। তেনারা ‘পিতা পিতা’ কইরা চোখের জল ফেলেন, আর যজ্ঞায় ‘মা মা’ কইরা চ্যাল্লায়। তাবৎ প্যাচাল ওই সাকার আর নিরাকারে, নইলে আর কুনও কাউর নাই।”
-“হুঁ, বুঝলাম।” বলিলাম বটে, কিন্তু এই বোঝা লইয়া আমি কী করিব, তাহা সহসা স্থির করিতে পারিলাম না। কেবল মনে হইল, এতদিনে যেন কিঞ্চিৎ আলোর সন্ধান পাইয়াছি। যে চক্রব্যূহ এযাবৎ দুর্ভেদ্য বলিয়া বোধ হইতেছিল, আজ স্বয়ং নিয়তি যেন পাঁচুগোপালের বেশ ধরিয়া তাহাতে একখানি ছিদ্রের সন্ধান করিয়া দিয়াছেন। “তা বাপু পাঁচুগোপাল, তুমি কোন দলে? সাকার না নিরাকার?”
-“আইজ্ঞা কত্তা, মুই বেকার।”
-“অ্যাঁ! কী বললি?”
-“মোর কুনও ইষ্ট নাই কত্তা।” ব্যাখ্যা করিল পাঁচু, “প্যাটের ক্ষুধা মোর যম, হেই যমের হাত থিকা যিনি মোরে রক্ষা করবেন— তিনিই ইষ্ট, তিনিই গুরু। হ, এককালে আমি হেই দলের লবণ খাইছি, হাচচইও কথা। কইলোম, হেই কৃতজ্ঞতা কোলে কইরা বইসা থাকলে তো আর মোর চলব না।”
-“আরেকবার ভেবে জবাব দে, পাঁচু। যজ্ঞা তোর ছোটবেলার স্যাঙাত আমাদের কথামত কাজ করলে হয়ত একদিন তোর জন্যই সেই যজ্ঞার কোমরে দড়ি পরবে। অবশ্য তার জন্য যথোপযুক্ত ক্ষতিপূরণ তুই পাবি।” হাতের ইশারায় বিশদ করিলাম আমার বক্তব্য, “কিন্তু তোর বিবেক আবার কামড়াতে আসবে না তো? দেখিস পাঁচু, এ-কাজে একবার নেমে পড়লে কিন্তু আর পিছিয়ে আসার উপায় নেই। লেগে থাকলে পুরষ্কার যেমন পাবি, মাঝপথে পিঠটান দিলে তিরষ্কারটাও কিন্তু সইতে হবে তোকেই।”
পাঁচুগোপাল এতক্ষণ হাঁটু মুড়িয়া বসিয়া ছিল, তাহার যুক্ত করদ্বয় ঝুলিয়া ছিল বক্ষের সম্মুখে। এইবার সেই একই ভঙ্গিতে সে উঠিয়া দাঁড়াইল, কহিল “যজ্ঞা কইছিল, হে জীবদ্দশায় মোর থোতমা আর দেখব না। তা আইজ রাতে যদি মোর বাপেরে ফের কাশে ধরে, কাশতে কাশতে হে জাইগা থাকে রাতভর, আর কাশের দমকে দলা দলা রক্ত বাহির হয় তার মুখ থিকা, তহন কি যজ্ঞা আইসা তারে নিরাময় করব? মিছা কথা কমু না কত্তা— মুই যজ্ঞারে তহনও একসের ভালা পাইতাম, অহনও পাই। তা হে যজ্ঞা মোর হোগায়ই লাতাক, আর গালে চুমাই খাক। তার নাহান দোস্ত মুই এ-জীবনে আর দ্বিতীয়টি পাই নাই— এ-কথা মুই ঘাটে উইঠাও মানব। কইলোম, কর্মফল খণ্ডাইবার আমি কেডা? যজ্ঞার কর্মফল যদি তারে উচ্ছন্নে নিয়া যায়, তো মুই তারে বাধা দিই কেমনে কন দেহি?”
ফেলে আসা সময়ের কলকাতা নিয়ে নতুন করে আবার একটা বই, মানেই সেখানে নতুন তথ্য এসেছে, এমন নয়। বরং নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনাকে বিশ্লেষণ, বর্তমান সময়ের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করার চেষ্টা এই বই। চটজলদি যোগাড় করে পরিবেশন করা তথ্য নয়, পুরোনো সময়ে লেখার নতুন করে টিপ্পনি করাও নয়, বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে অতীতকে ফিরে দেখা, অল্প আলোচিত কিছু টুকরো ঘটনার পুনর্নির্মাণ করার চেষ্টা এটি। ইতিহাস যে শুধু ফিসফিস করে কথা বলে না, বর্তমান সময়ের নিকটতম প্রতিচ্ছবি হয়ে বিরাজ করে, সেকথা প্রমাণের চেষ্টাও রয়েছে অবশ্য। কলমের গুণমান কিংবা মসৃণ পাঠের আগাম নিশ্চয়তা না থাকলেও, পাঠকের কৌতূহল বাড়ানোর গ্যারান্টি থাকছেই
Kalimayer Boma : Abhishek Chattopadhyay
Pages : 112
কালীমায়ের বোমা : অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
সারাংশ : অগ্নিযুগে বাংলার জটীল রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি, সশস্ত্র সংগ্রামকে যে পথে চালিত করেছিল, তার অন্যতম অনুষঙ্গ ছিল শক্তি আরাধনা। তাই সেই গুপ্তসমিতির গোপন অস্ত্র কারখানাও আশীর্বাদ চেয়েছিল বঙ্গীয় ধর্ম অভ্যাসে শক্তির স্বরূপ, দেবী কালিকার কাছে। সেই সূত্রেই, তাঁদের তৈরি ইংরেজ প্রশাসনের ঘুম কেড়ে নেওয়া বোমার নাম হয়েছিল ‘কালীমায়ের বোমা’। অভিষেক চট্টোপাধ্যায়ের নিবিড় ও অনুসন্ধিৎসু কলমে সেই বিস্মৃত ইতিহাসের যুগোপযোগী অনুসন্ধান।
ভাগ্যের ফেরে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করা তিন শিক্ষার্থী, আধুনিক চাষি হতে চলে আসে গ্রামে। উত্তরবঙ্গের এই গ্রাম এখনও উত্তরাধুনিকতার ছোঁয়া পায়নি। হ্যাঁ, স্মার্ট ফোন সবার হাতে আছে। তবে সেই স্মার্ট ফোনে অন্যের স্মার্টনেস দেখা আর নিজে স্মার্ট হবার মধ্যে ঢের তফাৎ।
এরই মধ্যে ওদের তিনজনকে এমন এক ঘটনার সামনে পড়তে হয় তাতে সকল প্রকার আধুনিকতার ভিত নড়ে ওঠে শিহাবের। চোখের সামনে বান্ধবীর সঙ্গে ঘটে যাওয়া অদ্ভুত ঘটনা দেখে কিছুতেই সেসবকে উড়িয়ে দিতে পারে না শিহাব। গ্রামের মনু মাস্টারের ক্ষমতার পরিচয় পেয়ে আগ্রহ বেড়ে যায় তার। একটু চেষ্টাতেই সে আলাপ জমিয়ে ফেলে প্রায় নিঃসঙ্গ মনু মাস্টারের সঙ্গে।
মনু মাস্টারের কাছ থেকেই শিহাব শুনতে পায় লাল মিয়া ফকিরের নাম। সেই ছয় পুরুষ আগের ফকিরের ক্ষমতা এখনও ব্যবহার করে চলেছে মনু মাস্টার। লাল মিয়া ফকিরের আলোচনায় ওরা চলে যায় দেড়শ বছর পেছনের সেই প্রাচীন বাংলায়।
তখন লাল মিয়া ফকিরের বাল্যকাল। ফকিরি ও তন্ত্রের দুনিয়ায় কেবল তার পথচলা শুরু হয়েছে। হঠাৎ করে সেই অঞ্চলে হারিয়ে যেতে থাকে আট থেকে দশ বছরের বালকেরা, হারিয়ে যাবার কিছুদিন পরে পাওয়া যায় তাদের প্রাণহীন শক্ত দেহ। কিন্তু কোনোরকম আঘাতের চিহ্ন সেই দেহে থাকে না। রূপগড়ের জমিদার সুখেন মজুমদার রোগশয্যা ছেড়ে হঠাৎ স্বাভাবিক চেহারায় কীভাবে বেরিয়ে আসেন? পিশাচ-সিদ্ধ মহা শক্তিশালী তান্ত্রিক নিশিকান্তের ক্ষমতা এবার কোন পিশাচকে জাগাতে ব্যবহৃত হচ্ছে? রূপগড়ে অন্দরে নিয়মিত গুমরে ওঠে কার কান্না ধ্বনি? ধীরে ধীরে আলোকে ক্রমশ সংকুচিত করে চলে অন্ধকার।
লাল মিয়া ফকির ছেলেমানুষ। কিন্তু একসময় সেই ঘন কালো অন্ধকারের সামনে সে ছাড়া দাঁড়ানোর মতো আর কেউ রইল না। বালক লাল মিয়া ফকির কি পারবে, সেই অন্ধকারের রেশ মুছে দিয়ে ভোরের আলো ফোটাতে?
Author : Somabrata Sarkar
Binding : Hardcover
Language : Bengali
Publisher : KHORI PRAKASHANI
কাপালিক তান্ত্রিক যোগী কথা
ফের জ্বলছে কাশ্মীর। চারদিকে রক্তের গন্ধ। মৃত্যুর মিছিল ভূস্বর্গে। চিনারের বন পেরিয়ে যে হাওয়া সর্বাঙ্গ ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায় সে হাওয়ায় আজ তীব্র বারুদের গন্ধ। সে হাওয়া অন্য এক ভারতের তীক্ষ্ণ হাহাকার আর সর্বগ্রাসী ক্ষোভের কথকতা শুনিয়ে যায়! কাশ্মীর মানে, বিধ্বস্ত নিরাপত্তা, সম্মান। ভূমিপুত্রদের সকলের নাম একযোগে অঘোষিত জঙ্গি তালিকায় তুলে দেওয়া! রাস্তায় বেরোলেই পদে পদে তল্লাশি আর উর্দিধারীদের শরীর ও চোখের চাউনি থেকে ঝরে পড়া অপমান। জনজীবন বিপর্যন্ত হওয়াটা তো বাইরে থেকে চোখে পড়ে! গোটা মানবজমিন যে তছনছ হয়ে যাচ্ছে, তা আমার ‘নিরাপদ’ আশ্রয়ে বসে টের পাই কই। এই ভূস্বর্গে দমবন্ধ হয়ে আসে!
ম্যাও এর পর আসছে স্বয়ম্ভু সেনের দ্বিতীয় রহস্য কাহিনি ” কথাকলি কোথায়?”
এম এল এ সোমেন সরকার, একসময় শিশুপাচারের সঙ্গে নাম জড়িত থাকলেও প্রমাণ মেলেনি। গুপ্ত খবর, এখন মেয়েপাচারের সঙ্গেও নাকি যুক্ত। তাঁরই একমাত্র মেয়ে কথাকলি। নিরুদ্দেশ। পাচারকারীর মেয়েই পাচার হয়ে গেল? নাকি খুন? পালিয়েও যেতে পারে। কিন্তু কেন? দায়িত্ব বর্তাল গোয়েন্দা স্বয়ম্ভু সেনের কাঁধে। রহস্যের কানাগলি বেয়ে ছুটতে ছুটতে কেঁচো খুঁড়তে বেরিয়ে এল কালসাপ। কে? কেন? কীভাবে খেলছে? খেলার মধ্যে চলছে নাকি অন্য খেলা? এ শহরের কাছে গোয়েন্দা স্বয়ম্ভু হয়ে উঠল পর্নস্টার। আরও মর্মান্তিক, সহকারী শিবাঙ্গী বসুর শ্লীলতাহানি!
উনিশ বছর পর আসতে শুরু করল অদ্ভুত সব চিঠি। আইনজীবী আহমেদ মুনতাসির তপুর অতীত খুঁড়ে বের করছে কেউ।
উনিশ বছর আগে গাজীপুরে এক রিজর্ট থেকে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল তার কয়েকজন বন্ধু। এদের মধ্যে ছিল তার বোনও। তার লাশ পাওয়া যায়নি। লাশ পাওয়া যায়নি বন্ধু রাহাত শরিফেরও।
উনিশ বছর পর পাওয়া গেল নিখোঁজ রাহাতের লাশ। নাম পাল্টে এত দিন বেঁচে ছিল সে! তাহলে কি তপুর বোন রাত্রিও বেঁচে আছে?
উনিশ বছর আগে তপুকে ছেড়ে গিয়েছিল অদিতি। অনেক চেষ্টা করেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি, হঠাৎ তার জীবনে নতুন করে আবির্ভূত হলো সে।
কেন?
কারাই বা খুঁড়ে বের করছে তার পরিবারের গোপন এক ইতিহাস?
সন ১৭৫১। বাবার মৃত্যুর পর শুভাকাঙ্খী মি. ক্যাম্বেলের পরামর্শে ডেভিড ব্যালফুর রওনা দেয় শ জমিদারবাড়ির উদ্দেশে। মনে আশা, বাপ-মা হারা হতভাগ্য জীবনে যদি একটু হাল ফেরে। কিন্তু ইষ্টদেবতা যে অন্য কিছু পরিকল্পনা করে রেখেছিলেন ডেভিডের জন্য!
ভাগ্যের চাকা ঘোরে ঠিকই, কিন্তু তার ইচ্ছানুসারে নয়। ঘটনাচক্রে ডেভিডের জীবন জড়িয়ে যায় রাজদ্রোহের অভিযোগে অভিযুক্ত অ্যালান স্টুয়ার্ট ব্রেকের সঙ্গে। এদিকে অ্যালানও ডেভিডের কাহিনি জানতে পেরে তাকে তার লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর। কিন্তু কীভাবে হবে সেই অসাধ্য সাধন?
ডেভিড ব্যালফুরের সেই বিচিত্র অভিযান নিয়েই স্কটল্যান্ডের পটভূমিকায় রবার্ট লুই স্টিভেনসনের ইতিহাসাশ্রয়ী উপন্যাস ‘কিডন্যাপড’।
Klanto Uter Cholachol
Prithwi Basu
ক্লান্ত উটের চলাচল
Mandas
Bengali book
কবিতার রান্নাঘর কবিদের ঘরবাড়ি
সোমব্রত সরকার
পার্থ দাশগুপ্ত চিত্রিত
সে এক আশ্চর্য দিনকাল! কলেজ পড়ুয়া তরুণের চারপাশে ছড়ানো বুদ্ধদেব বসুর চিঠি, বিষ্ণু দে-র থেকে উপহার পাওয়া বই, মোহিতলাল মজুমদারের চিঠি, কবিতা ও বঙ্গদর্শন পত্রিকা। বনানী বাড়িতে জীবনানন্দের সই করা বই দেখার উন্মাদনা ও উল্লাস-প্রণবেন্দু দাশগুপ্ত, মণিভূষণ ভট্টাচার্য কবিতা পড়ছেন। দেবারতি মিত্র, দেবীপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়, রণজিৎ সিংহ-পুরনো সময়, পার হওয়া স্মৃতি। অমিতাভ গুপ্তের বই বেরোচ্ছে, দেবদাস আচার্যকে ঘিরে মৃদুল দাশগুপ্ত, জয় গোস্বামী, নির্মল হালদার। দেবকুমার বসুর বাড়িতে মলাট-ভাঙা শক্তি, বিনয়ের কাব্যগ্রন্থ-প্রথম অফসেটে ছাপা বইয়ের নাড়াচাড়া-১৯৪৭ সাল। দুপুরবেলা খেতে বসা দেবকুমার বসুর স্ত্রীর হাতের সুস্বাদু রান্না-পোলাও, মাংস, ধনেপাতা চিংড়ি মাছ দিয়ে বাটা, মোচা, কইমাছ।
যোগিয়া বাড়ির রাশভারী মণীন্দ্র গুপ্ত, পুনে থেকে ডাকে আসা রাজলক্ষ্মী দেবীর কবিতা, গীতা চট্টোপাধ্যায়ের বনেদি বাড়ি, সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায় লাল বাড়ি, শঙ্খ ঘোষের ঈশ্বরনিবাস। কল্যাণীর রাস্তায় হেঁটে চলা বীরেন্দ্রনাথ-ধোঁয়া ওঠা গরম বোঁদে, শান্তিপুরে ফল্গু বসুর বাড়ি। রমেন্দ্রকুমার আচার্যচৌধুরীর চলে যাওয়া, পূর্ববঙ্গের স্মৃতি-ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, সুসঙ্গ-দুর্গাপুর। কোগ্রামে কুমুদরঞ্জনের বাড়ি-অষ্টমীতে বলির মাংস রান্না। মনকেমনের অনবদ্য চিঠি-অশোক মিত্র, অশ্রুকুমার সিকদার, সমবয়সীদের কলতান-পত্রিকা, প্রেম, ব্যথা ও বিচ্ছেদ। অগ্রজদের হাতে ধরে শেখানো ছন্দ। এ বই ফেলে আসা সিকি শতাব্দীর কবিতার রান্নাঘর, কবিদের ঘরবাড়ির জীবন্ত অন্দরসজ্জা।
Specifications
Binding
Hard Board
Publishing Year
2025
2025
0.5kg
Author – Pinaki Biswas | পিনাকী বিশ্বাস
Publication – Khori Prakashani
একদিকে দিল্লির ক্ষমতার সৌজন্যে বাংলায় সংঘ পরিবারের বিপুল বিস্তার, হিন্দুত্ববাদী উগ্রতা ও মুসলিম-বিদ্বেষের স্বাভাবিকীকরণ, আরেকদিকে ১৫ বছরের শাসনকালে ভুরিভুরি দুর্নীতির অভিযোগ ঘাড়ে নিয়ে চলা ‘মুসলিম-তোষণকারী’ তৃণমূলের মন্দির-রাজনীতি। ধর্মের ধোঁয়ায় পাপ ঢাকার এক অদ্ভুত জালে জড়িয়ে গিয়েছে বাংলার রাজনীতি। হালে পানি পাচ্ছে না বাম-কংগ্রেসের তৃতীয় শক্তি হয়ে ওঠার প্রচেষ্টাও। কোথা থেকে, কীভাবে আমরা এখানে এলাম?
Khori Prakashani
0.5kg
Publication – Shabdo Prokashon
Author – Tamoghna Naskar
Weight – 0.4kg
Binding – Hard Bound
কৃষ্ণপক্ষ
কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প, হাড়ের বাঁশি আর ভয়ের গদ্যমালা।
অর্ক চক্রবর্ত্তী-র লেখায় ভয় ধরা দিয়েছে কাব্যিক সৌন্দর্য নিয়ে। বুকের রক্ত কেঁপে ওঠা ভয় নয় বরং ওঁর লেখা জুড়ে আতঙ্ক, বীভৎসতা, ভয় ধরা দিয়েছে স্নিগ্ধ শীতল বাতাসের মত যাতে অনায়াসেই ভেসে যাবেন পাঠক। লেখার মাধুর্য এমনই যাতে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ার পরেও এর রেশ থেকে যায় বহুদিন। সাধারণত ভয়ের বই একবার পড়ার জন্যই উপযুক্ত হয়। খুব কম ভয়ের বইই পাঠক বারবার পড়েন। ‘কৃষ্ণশর্বরী’ তেমনই বারবার পড়ার উপযুক্ত বিরল গোত্রের এক ভয়ের বই। দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি, এই বই পাঠ করার পর এর রেশ থেকে বেরোতে পাঠকের বহুদিন সময় লাগবে।
কুমারী রানির ডাক্তার
মৈত্রী রায় মৌলিক
ষোড়শ শতকের ইংল্যান্ড। বিজ্ঞান শব্দটি তখনও অজানা। ইংল্যান্ডের রাজনৈতিক ভূগোলের সঙ্গে তখনও যুক্ত হয়নি স্কটল্যান্ড আর আয়ারল্যান্ড। এই সময় ইংল্যান্ডের রাজমুকুট উঠল পঁচিশবর্ষীয়া এক প্রোটেস্ট্যান্ট নারীর মাথায় যাঁর নাম এলিজাবেথ টুডর।
এলিজাবেথ টুডরের চুয়াল্লিশ বছরের রাজত্বে ইংল্যান্ড পৌঁছে যায় স্বর্ণযুগের দোরগোড়ায়। গোটা ইউরোপে তখন বিজ্ঞান-চেতনার প্রদোষকাল। দর্শন থেকে বিজ্ঞানকে ছেঁকে বের করতে হবে, ব্রহ্মাণ্ড অসীম, পৃথিবী সূর্যের চারিদিকে ঘোরে ইত্যাদি কথা প্রচার করতে চাইছেন ব্রুনো, গ্যালেলিও, ব্রাহের মতো পণ্ডিতেরা। অপরদিকে রোমান চার্চ এইসব নতুন চিন্তাধারাকে প্রশ্রয় দিতে নারাজ, তারা পুরনো ধারণা আঁকড়ে রাখতে চায়।
এই উত্তাল আবহাওয়ায় ইংল্যান্ডে, বিজ্ঞান-চেতনার সূচনা হয় এক প্রথিতযশা ডাক্তারের পরীক্ষালব্ধ গবেষণার মাধ্যমে যাঁর নাম উইলিয়াম গিলবার্ট। জীবনের শেষ তিনটি বছর রানি এলিজাবেথের রাজচিকিৎসক ছিলেন ড. গিলবার্ট। চুম্বক এবং ইলেকট্রিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং গবেষণার প্রথম ধাপ তৈরি করেছিলেন ড. গিলবার্ট। ইউরোপে জ্ঞানচেতনার উন্মেষ যার উৎসে আছে ত্রিধারা— গিলবার্ট, ব্রুনো আর গ্যালেলিও। কেমনভাবে মিশে ছিল এই তিন ধারা? আধুনিক বিজ্ঞানের সূচনাকাল স্যর আইজ্যাক নিউটনের সময় শুরু হলেও জ্ঞানচর্চার উৎসমুখ আরও একশো বছর আগেকার। ষোড়শ শতকের জ্ঞানচর্চার তিন প্রাণপুরুষ গিলবার্ট, ব্রুনো এবং গ্যালেলিওর মধ্যে যিনি সর্বাপেক্ষা কম পরিচিত সেই উইলিয়াম গিলবার্টকে নিয়ে উপন্যাস ‘কুমারী রানির ডাক্তার’।
স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডে মহিলাদের শামিল হতে তখনও দু’দশক দেরি। ভিক্টোরিয়ান সাহিত্যের পাতায় বেসরকারি পেশাদার গোয়েন্দা হিসেবে রাজত্ব করছেন শার্লক হোমস। সেই সময়েই ক্যাথরিন লুইসা পার্কিসের কলমে হাজির লেডি লাভডে ব্রুক। ফ্লিট স্ট্রিটের এক বেসরকারি গোয়েন্দার অফিসে তাঁর চাকরি। লাভডে তাঁর অফিস থেকে আন্দাজ আধঘণ্টার দূরত্বে বসে থাকা গোয়েন্দাচূড়ামণিকে টেক্কা দেওয়ার ক্ষমতা রাখতেন বলেই মনে করতেন তাঁর পাঠকরা। ‘দ্য লাডগেট ম্যাগাজিন’-এ প্রকাশিত হওয়া এই ‘গোয়েন্দানি’র সাতটি কাহিনির বাইরে আর কোনও কাহিনির সন্ধান মেলে না। সেই সব কাহিনি একত্র করে বাংলায় প্রথমবার প্রকাশিত হল ‘লেডি লাভডে ব্রুক সমগ্র’।
মদের চাট জোগাতে আলস্য করায়, বিশ্বম্ভরের তাড়া খেয়ে পিছলে পড়ে মারা যায় তাঁর গর্ভিনী স্ত্রী হিরণ। মৃত্যুকালে সে প্রসব করে তাঁদের কন্যা সন্তান টুকী-কে। অনাদরে অবহেলায় বড়ো হচ্ছিল টুকী। ভগ্নীপতী লালমোহনের বাড়ি যাওয়ার পথে নৌকায় বিশ্বম্ভর উত্তম নাম্নী বেশ্যাকে দেখতে পেয়ে মুগ্ধ হয়ে পড়ে। তাঁকে বিয়ে করে ঘরে তোলে। পাড়া-পড়শীর নজর আর বক্রোক্তি পেল উত্তম। আর টুকী পেল মা। সময় গড়িয়ে চলল…
এক বেশ্যার জীবনকাহিনি নির্ভর, মানব মনের এক গহীন, জটিল, অদ্ভুত, মনস্তাত্ত্বিক এই উপন্যাস।
কথায় বলে, ‘লক্ষ্মী-শ্রী’ -কী বোঝায়, একথা দিয়ে?
বস্তুত, ‘লক্ষ্মী’ আর্থে অতুল ধন-সম্পদ-ঐশ্বর্য; আর ‘শ্রী’ অর্থে অনির্বচনীয় লাবণ্য-সৌন্দর্য ও ধীর-স্থির অচলভাব। উভয় মিলে ‘লক্ষ্মী-শ্রী’।
ভারতবর্ষে, স্মরণাতীত কাল ধরে এই ‘লক্ষ্মী-শ্রী’ ভাবনার রেশ চলেছে নানাভাবে, নানান বিভঙ্গে।।
হিন্দু-বৌদ্ধ-জৈন, ভারতবর্ষের এই তিনটি প্রধানতম ও প্রাচীনতম ধর্মধারায় বাক্যপথাতীত রূপও লাবণ্য, অপরিসীম ধন ও ঐশ্বর্য এবং প্রাণময় ও প্রাণপ্রদ অন্ন-এ সকলের প্রতিভূ ও প্রতীকরূপে গণ্য হয়েছেন ‘শ্রী-লক্ষ্মী’ তথা দেবী লক্ষ্মী।
হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে, ভারতবর্ষে, মার্গ ধর্ম ও লোকধর্ম, মার্গ-সংস্কৃতি ও চিরায়ত লোকসংস্কৃতি, এবং ইতিহাসের অঙ্গনে, দেবী লক্ষ্মী অবিরামভাবে পদচারণা করে চলেছেন। ‘লক্ষ্মীর পা-চালি’ গ্রন্থে তারই চমকপ্রদ ও আকর্ষণীয় বিবরণ।
বাঙলার লোকমানসে ও লোকসাংস্কৃতিক জগতে, বাঙালির গৃহাঙ্গনে ‘লক্ষ্মীর পা-চালি’ সম্পর্কে ইতিপূর্বে কোনো গ্রন্থ প্রকাশিত হয়নি। মধ্যযুগীয় বাঙলা কাব্যাদিতে ধান-চাল-অন্নের, কবিগণ প্রদত্ত বিচিত্র বিবরণ, এ যাবৎ সম্পূর্ণ অজ্ঞাতই আছে বলা চলে। এসবের বিস্তৃত বিবরণ দানের পাশাপাশি রয়েছে বাঙলার কৃষি-অর্থনীতিতে এবং প্রবাদ-প্রবচন তথা সমাজজীবনে ধান-চালের ভূমিকার কথা।
Author : Asok Chattopadhyay
Binding : Hardcover
Language : Bengali
Publisher : KHORI PRAKASHANI
লালন হারিনাথ ও রবিন্দ্রনাথ
লিঙ্গসন্ত্রাস’ গ্রন্থটির স্বকীয়তা এখানেই। নিছক সমাজের দৃশ্যগ্রাহ্য বৈষম্য ও হিংস্রতা বা ধর্মকে গালাগালি নয়; সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্মভাবে সূত্রনির্দেশ করে নারী ও শিশুর প্রতি হিংসার বিবিধ সংজ্ঞা, সারাবিশ্বে অদ্যাবধি নথিভুক্ত নারীনিগ্রহগুলির শ্রেণিবিভাগ ও বর্ণনা, সামাজিক ও বাণিজ্যিক অনুমোদন পেয়ে যাওয়া কিছু কদাচারকে লিঙ্গহিংসা হিসাবে শনাক্তকরণ এবং তৎসহ লেখিকার ক্ষুরধার বিশেষণ এই বইটিকে শুধু মনুষ্যত্ববাদের স্তম্ভ নয়, অ্যাকাডেমিক উৎকর্ষের একটি শিখরেও পরিণত করেছে। সুদীর্ঘ ১৪ বছর লিঙ্গবিজ্ঞান নিয়ে নিরলস তপস্যা যে গূঢ়তর সত্য উদ্ঘাটন করেছে, তার অন্যতম উপজাত ফল হল, ‘লিঙ্গসন্ত্রাস’।
ইতিহাসের সঙ্গে অতীতের সম্পর্ক খুবই নিবিড়। কিন্তু সেই অতীতের উপাদানে যদি ভয় মিশে থাকে, যদি সেই ফেলে আসা ইতিকথাগুলোয় অলৌকিক রোমাঞ্চ মিলে থাকে, যদি সেই ধোঁয়াশাময় অচেনা অজানা ইতিবৃত্তগুলোয় ভৌতিক উপাদান জড়িয়ে থাকে তাহলে কেমন হয় বলুন তো!!
‘ লক্ষ্মী ‘ এমনই দশটি ইতিহাস নির্ভর অলৌকিক (ভৌতিক) গল্পের সংকলন, যার পরতে পরতে ছড়িয়ে রয়েছে ঐতিহাসিক ঘটনাবলী কিন্তু ভয়ের মোড়কে। আর এই ইতিহাস বয়ে নিয়ে বেরিয়েছে কখনো নিষ্পেষিত সাঁওতাল বিদ্রোহের নেতারা, বাংলার দুর্ধর্ষ ডাকাতেরা, ব্রিটিশ কলকাতার সাহেবরা, বিস্মৃত জমিদার বাড়ির দন্ড মুন্ডের কর্তারা কিংবা তন্ত্র মন্ত্রের অপদেবতারা।
এবার অপেক্ষা আপনাদের ভয় পাওয়ানোর।
‘ ঐতিহাসিক ভয় ‘ !! আপনারা তৈরি তো ?
লেখক পরিচিতি:
এই সময়ের কমিকস্-রচয়িতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একজন শিল্পী। তার সৃষ্ট ‘রাপ্পা রায়’ চরিত্রটি ইতিমধ্যেই ভীষণই জনপ্রিয়। এছাড়া অন্যান্য মজার গল্প নিয়েও তার অসামান্য সমস্ত কাজ রয়েছে।
আমেরিকায় চাকরি করতে গিয়ে এমন বিপদে পড়তে হবে ঝিলিক ভাবেনি। একটা পথ দুর্ঘটনায় মাথায় চোট লাগার পরেই ওর জীবনে সংকট নেমে এসেছে। নিজের ইচ্ছায় ঝিলিক কোনও কাজ করতে পারছে না। এমনকী খিদে-তেষ্টা কিংবা ঘুম এসব জৈবিক প্রবৃত্তির ওপর ওর আর নিজের নিয়ন্ত্রণ নেই। ঝিলিককে পরিচালনা করছে অন্য কেউ, তার হাতে রয়েছে ঝিলিকের মস্তিষ্কের নিয়ন্ত্রণ। এখন কী করবে ঝিলিক? ওর মগজ কারা দখল করে নিয়েছে? তাদের কাছ থেকে সে কি ফেরত পাবে নিজের চুরি-যাওয়া মন আর শরীরের অধিকার?
খোঁজা থামিয়ে দিলেই পাবার আশা নিঃশেষ হয়ে যায়। নর্মদার সামনে বসে পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে ভাবতে বাধ্য হয় রুদ্রদেব আর অসিত। সমুদ্র সম্পর্কে তাদের কোন জ্ঞান নেই। এখানে গুরু শিষ্যের বিষয় খাটবে না, দুজনেই নবিশ। তবু অসিতকে এগিয়ে যেতেই হবে। অঙ্গদকে উদ্ধার না করে সে ফিরে যাবে না। রুদ্রদেবও শিষ্যকে ত্যাগ করতে পারে না। শিক্ষা শেষ হবার আগে কোন গুরুই শিষ্যকে ত্যাগ করে না।
ওদিকে রাহু অঙ্গদকে নিয়ে জাহাজে চেপে বসেছে। পশ্চিমে নিজের পরিচিত বন্দরের অভাব নেই। সেগুলোর একটাতে থিতু হয়ে বসেই অঙ্গদকে নিয়ে নিজের ভাগ্য পরিবর্তনের পরিকল্পনা করে চলেছে সে। কিন্তু বিধির চিন্তা হয়তো অন্যরকম। রাহুর মতো লোকের তো আর পৃথিবীতে অভাব নেই। চলার পথে রাহু বুঝতে পারে, অঙ্গদের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছে লোকে। কেউ কেউ তো অঙ্গদকে পাবার জন্য তার প্রাণ নিতেও পেছপা হবে না।
রোমান সাম্রাজ্যের দখলে আছে পুরো গ্রীস আর ভূমধ্যসাগরের চারিদিকের অঞ্চল। রোমান সম্রাট ট্রাজানের শাসনে সাম্রাজ্যের কোথাও কোন সমস্যা মাথাচাড়া দিতে পারছে না। তবে পরাধীন গ্রীসের বাতাসে মাঝে মাঝে শোনা যায় স্বাধীনতার কানাকানি। আলেকজান্ডারের উত্তরসূরিরা নিজেদের এই অবস্থা কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না। নিজেদের সিংহসম সাহস মাঝে মাঝে জেগে উঠতে চায়। বিদ্রোহের লক্ষণ দেখা দেয় স্পার্টার আকাশে বাতাসে।
ইভানের স্বাধীনতা নিয়ে তেমন মাথাব্যথা নেই। গ্রীসের অভিজাত সেনাদলে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করে অভিজাত সুবিধা নিয়ে জীবন কাটাতে পারলেই হলো। সেই লক্ষ্যেই স্পার্টার সেরা যোদ্ধা হবার পথে এগিয়ে চলেছে সে। কিন্তু হঠাৎ করে বদলে যায় তার জীবন। প্রেম জোয়ার বইয়ে দেয় তার জীবন নদীতে। আর, প্রেম কখনোই কাউকে অবিকৃত রাখে না।
স্পার্টার দুর্গম পাহাড়ে জেগে ওঠার অপেক্ষায় আছে এক অমোঘ শক্তি। টিয়ার অব এপোলোর অপেক্ষায় কাল কেটে যাচ্ছে তার। সে কি জেগে উঠবে গ্রীসের স্বাধীনতার ভাগ্যবিধাতা হয়ে?
আপাত সম্পর্কহীন ঘটনাগুলো শেষে মিলে গেলো একই বিন্দুতে। মহাকালের পথে শুরু হলো এক রোমাঞ্চকর মহাযাত্রা।
Publication – Shabdo Prokashon
Author – Mahua GHosh
Weight – 0.4kg
Binding – Hard Bound
মহাকুম্ভে চণ্ডাল
Specifications
Binding
Hard board
Publishing Year
2023
অঙ্গদকে ফিরে পাবার হিসেব মিলিয়ে নিজের ভূমির দিকে এক গতিতে ফিরে আসছে অসিত। ভেতরে ভেতরে একটা আতঙ্ক দানা বেঁধে উঠছে তার। দেশ ছেড়ে এসেছে কম দিন তো হয়নি। গ্রামের কেউই তো তার সাফল্যের ব্যাপারে আশান্বিত ছিল না। যদি, রাধার মা এরই মধ্যে রাধার হাত অন্য কারো হাতে তুলে দিয়ে থাকেন, তাহলে তো সব পেয়েও কিছুই পাওয়া হবে না অসিতের। ক্রমাগত পথ চলছে সে রুদ্রদেবকে নিয়ে, সাথে জপছে ঈশ্বরের নাম। কিন্তু, অসিতের বিন্দুমাত্র ধারণা নেই, সে যেভাবে আর্যাবর্তকে রেখে গিয়েছিল, আর্যাবর্ত এখন আর সেই অবস্থায় নেই। রাজনীতি অনেক ভাবেই পাল্টে ফেলেছে নিজের গতি পথ। চেরা রাজা উথিয়ানের মৃত্যুর পর ভেরাপ্পন এখন রাজা হবার স্বপ্নে বিভোর। তার সেই পথে বাধা কেবল রানি নলিনী ও রাজপুত্র নিদাম। তবে সেসব বাধাকে সহজেই এড়িয়ে যাবার পরিকল্পনা চলছে ভেরাপ্পনের মাথায়। সিংহাসন কি আসলেই এতো সহজে হস্তগত হবে? চোলায় শান্তি ফিরে এসেছে। প্রজারা এবার চাইছে রাজা কারিকালার বামপাশের আসনে রানি লক্ষ্মী হয়ে বসুক। রানির সন্ধান করছে কারিকালা। তবে সেই সন্ধান কি আদৌ এত কণ্টক বর্জিত হবে? শকদের সম্পদের হাতছানিতে মহারাজ সাতকর্ণী অবস্থান করছেন উজ্জয়িনীতে। ওদিকে অবহেলায় পড়ে আছে তার রাজধানী প্রতিষ্ঠানা। শাসকের অনুপস্থিতিতে ধীরে ধীরে রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ছে অরাজকতা। মহাবলের কথা মনে আছে? যে সামন্ত যুবরাজ অঙ্গদকে আগুনে ফেলেছিল। সে পিতার মৃত্যুর পর রাজা হয়েছে। তারপর বসেছে অত্যাচারের পশরা সাজিয়ে। মহাপ্রস্থান সকল হিসেব মেলানোর পথ। সে হিসেবের কাছে পৃথিবীর সকল হিসেব গৌণ, এতো কঠিন গণিত কোন গণিতের বইয়ে খুঁজে পাওয়া যাবে না। তবে আশার কথা একটাই। ‘মহাকাল কখনও কোনও হিসেব বাকি রাখে না’।
Publication – Shabdo Prokashon
Author – Mahua GHosh
Weight – 0.4kg
Binding – Hard Bound
মাহেন্দ্রানী
মন্দির মিস্ট্রি
সমৃদ্ধ দত্ত
প্রচ্ছদ – পার্থপ্রতিম দাস
ভারতের ৫টি দেবস্থান নিয়ে সমৃদ্ধ দত্তের তথ্যসমৃদ্ধ অনুসন্ধান ‘মন্দির মিস্ট্রি’।
সমৃদ্ধ দত্ত তাঁর ‘মন্দির মিস্ট্রি’ বইটিতে সন্ধানী আলো ফেলেছেন ভারতের ৫টি দেবতীর্থে। প্রথমেই আছে পুরীর জগন্নাথ দেবের মন্দিরের বিপুল ধনরাশির কথা। সেই ভাণ্ডারে কেউ প্রবেশ করতে পারে না। সরকারি উদ্যোগে দরজা খোলার ব্যবস্থা হলে চাবি উধাও হয়ে যায় হঠাৎ করে। ভেতর থেকে আসে ফোঁস ফোঁস আওয়াজ। কথিত, দুই কাল সর্প পাহারা দেয় ভগবানের ধনরাশি।
দ্বিতীয় প্রবন্ধ পুত্তাপুর্তিতে অবস্থিত সাঁইবাবার আশ্রম নিয়ে। কোটি কোটি টাকা মূল্যের সেই সাম্রাজ্যের রয়েছে নিজস্ব এয়ারপোর্টও। জীবিত অবস্থায় যেমন বর্ণময় চরিত্র ছিলেন, মৃত্যুর পরেও সাঁইবাবা ছিলেন একাধিক রহস্যের কেন্দ্রে।
এর পরের প্রবন্ধ কেদারনাথ নিয়ে। ২০১৩-তে উত্তরাখণ্ডের প্রাকৃতিক ধ্বংসলীলার পরে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল দেবাদিদেবের মন্দির। অগণিত মানুষ, ঘরবাড়ি ভেসে গেলেও রক্ষা পেয়েছিল মন্দিরটি। কীভাবে? লেখক সরেজমিনে দেখে এসে লিখেছিলেন সেই কাহিনি।
এর পরে আছে বেনারস এবং উজ্জয়িনী নিয়ে দুটো প্রবন্ধ। বেনারসের অলিগলিতে ছড়িয়ে থাকা নানা মন্দির নিয়ে অন্তরঙ্গ বর্ণনার শেষে আছে কাশীর তিনটি মন্দির নিয়ে রোমহর্ষক কাহিনি। আর উজ্জয়িনী? ওটা পাঠককেই পড়ে নিতে হবে।
মড়ক ও নবান্ন
অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়
সবকিছুরই একদিন শেষ হয়। কিন্তু প্রতিটি সমাপ্তিই কি নতুন শুরুর দরজা খুলে দেয় না? অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায় ধ্বংস ও সৃষ্টির সেই চিরন্তন সম্পর্ককে কবিতার ভাষায় রূপ দিয়েছেন। ক্ষয়, ভাঙন, মৃত্যু সবকিছুর মধ্যেই তিনি খুঁজেছেন পুনর্জন্মের সম্ভাবনা। প্রতিটি কবিতা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—ক্ষয় ও সৃষ্টি, কান্না ও হাসি, মৃত্যু ও জীবন—সবই একই চক্রের অংশ। অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাব্যে এই দ্বৈততাই হয়ে উঠেছে সৌন্দর্যের সবচেয়ে শক্তিশালী ভাষা। ব্যক্তিগত বেদনা থেকে সামাজিক বাস্তবতা সব মিলিয়ে এই কাব্যগ্রন্থ হয়ে ওঠে আমাদের সময়ের এক সংবেদনশীল দলিল।
মশলাপাতির ব্যবসা… দখলদারির কিস্সা
দেবযানী ভট্টাচার্য
সিল্ফিয়াম। মৌরির মতো দেখতে এক মশলা। রান্না থেকে চিকিৎসা, সব কিছুতেই কাজে লাগত। মাছ-মাংস খাওয়া হত সিল্ফিয়াম মাখিয়ে, আবার হজমের ওষুধ বা অন্য অসুখেও ব্যবহার চলত। হিপোক্রিতিসের লেখায় এর কথা আছে। সিল্ফিয়াম চাষ হত শুধু আফ্রিকার ক্রিয়েনের আশপাশের এলাকাতেই। জন্মাত অল্প। খ্রিস্টের জন্মের আগে অনেক শতক ধরেই গ্রিকরা ভেবেচিন্তে এর ব্যবহার করত। কিন্তু আমোদপ্রিয় রোমানদের হাতে পড়ে সিল্ফিয়াম ফুরোল।
সিল্ফিয়াম শেষ… টনক নড়ল ইউরোপের। গ্রিকরা তখন কোঁচড় থেকে হিং বার করে দিল তাদের। এক বিশেষ রুটে হিং আসত রোমে। আফগানিস্তানের হিরাট প্রদেশ থেকে পূর্ব ইরানের মাশহাদ হয়ে কাম্পিয়ান সাগরের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূল, সেখান থেকে বাগদাদ হয়ে ইউফ্রেটিস নদী দিয়ে পূর্ব সিরিয়া। উটের পিঠে মরুভূমি পার হয়ে ভূমধ্যসাগর, সেখান থেকে রোম ও অন্য ইউরোপীয় শহরে। হিংয়ের ইংরেজি প্রতিশব্দ ‘আসাফিটিডা’। ফারসি ‘আঝা’ আর লাতিন ‘ফয়েতিদা’ মিশিয়ে তৈরি, মানে ‘দুর্গন্ধওয়ালা বাকল’।”
মাটিয়ারির ইতিহাস
(সুপ্রকাশ অঞ্চলচর্চা গ্রন্থমালা ১০)
গোবিন্দ বিশ্বাস
স্থানীয় সংস্কৃতির প্রসারণেই (কেন্দ্র থেকে পরিধির দিকে যাত্রা) একটি অঞ্চলের সাংস্কৃতিক জীবনের লক্ষণগুলির মধ্যে কিছু সাধারণ সাদৃশ্যমূলক সমন্বয় সৃজিত হয়ে ওঠে। সেই সমন্বিত রূপটিই অঞ্চলটির সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্যরূপে প্রতিভাত হয়। তাই সংস্কৃতির আঞ্চলিক চেহারাটি একটি দেশের একটি বিশেষ কালের অঙ্গমাত্র নয়- একটি বৃহত্তর সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের ভিত্তিই হল আঞ্চলিক সংস্কৃতি, যা ‘লোকাল কালচারে’র সুরভিত অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সমবায়ে গড়ে ওঠে। এই অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের খোঁজেই সুপ্রকাশের অঞ্চলচর্চা গ্রন্থমালার পরিকল্পনা। বক্ষ্যমাণ গ্রন্থটি নদীয়া জেলার প্রান্তিক জনপদ মাটিয়ারিকে ঘিরে আবর্তিত।
অনেক সময় প্রেমের ভেতর লুকিয়ে থাকে লোভ, প্রতিহিংসা আর বঞ্চনা। শরীরের লোভে মানুষ হারিয়ে ফেলে তার বিচারক্ষমতা। যখন সে বুঝতে পারে, তখন অনেক দেরি হয়ে যায় সেই সম্পর্ক ভেঙে ফেলতে। প্রথম উপন্যাসিকাটি সেই আধারে রচিত।…
দ্বিতীয় উপন্যাসিকা হল, অলৌকিকের জাল রচনা করে মানুষকে দূর্বল করে তোলা।… সে হয়ে যায় অদৃশ্য শক্তির দ্বারা চালিত এক কাঠের পুতুল। এই ঘটনার মধ্যে থেকে সে কি কালোজাল ছিন্ন করে বেরিয়ে আসতে পারবে? যে ঘটনার পরতে পরতে রয়েছে অলৌকিকতা, ধোঁয়াশাময় এক পরিবেশ। যা আপনাকে সব সময় সন্দেহ আর শিহরনে ঘিরে রাখবে।
শংকর চ্যাটার্জীর লেখা দুটি থ্রিলার একত্রে— মায়াকুহক।
এ বইতে যে মানুষটির কথা লেখা হয়েছে, তাঁর জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোত জড়িয়ে রয়েছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পৃথিবীর ইতিহাস, বাংলার পঞ্চাশের মন্বন্তর, কলকাতার দাঙ্গার রক্তাক্ত দিন, ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের কথা, ও দেশের তৎকালীন অবস্থার অদলবদল। এক সময়ের অবস্থার প্রতিকূলতার ফলে পুব-বাংলা থেকে ভেসে আসা যে মানুষরা ওপড়ানো শেকড়কে পুনস্থাপন করার চেষ্টায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন, সে রকমই এক পরিবারের দুহিতা গ্রন্থের নায়িকা। স্বাচ্ছল্যে ভরা জীবনযাত্রা থেকে আর্থিক অসুবিধের মধ্যে উপনীত হলেও তারই মধ্যে কন্যা মানিয়ে নিতে পিছপা হন না, বরং প্রচণ্ড পরিশ্রম সহকারে একই সঙ্গে পড়াশোনা ও জীবিকার খোঁজ করেন সেই সাহসিনী। অর্জন করেন সন্মান, লাভ করে কলকাতার তৎকালীন বিখ্যাত ব্রাহ্ম ইস্কুলের শিক্ষয়িত্রী পদ। বিবাহ, সন্তানদের লালন-পালন, তাদের উচ্চশিক্ষার মধ্যেও তাঁর জীবন অদম্য শক্তিতে ভরপুর। কিন্তু জীবন-সায়াহ্নে সাথিহারা হওয়ার পর শারীরিক অসুস্থতায় তাঁর স্মৃতিশক্তি কমতে শুরু করে। তবুও ডায়েরির পাতায় নিজের জীবনকে ধরে রাখেন পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনায়। নিজের প্রিয় সহোদরাকে উদ্দেশ্য করে তাঁর এ লেখা বিগত প্রায় দেড়শো বছরের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থার প্রতিবিম্বও বটে।
অপরাজিতা লেখিকার মা। তিনি ভুলে গিয়েছেন তাঁর প্রিয় সেজদিদি আর বেঁচে নেই। বইতে তাই তাঁর সঙ্গেই কথোপকথন চলে। কিন্তু জরা তাঁকে পরাজিত করতে পারে না। বর্তমানকাল নয়, অ্যালজাইমারকেই বন্ধু হিসেবে মেনে নিয়ে নিজের প্রৌঢ়ত্ব, যৌবন, নির্ভার কৈশোর ও নিশ্চিন্ত শৈশবের স্মৃতিচারণের পথে ফিরে যেতে যেতে তাঁর যে গভীর বোধোদয় ও আত্মদর্শন হয়, তা বিস্মিত করে। অপরাজিতা পরাজিত হন না।
Publisher
Khori – খড়ি প্রকাশনী
Binding
Hardbound
Language
Bengali
অফিস ট্যুরে গিয়ে অনন্যর পরিচয় হল ঐশানীর সঙ্গে। ভীষণ মুডি আর অনেকখানি রহস্যে ঢাকা এক মেয়ে। অনন্য দূরে থাকতে চেয়ে গেছে প্রতিনিয়ত। ঐশানীকে বুঝতে চেষ্টা করে গেছে। তাকে বোঝা কি খুবই কঠিন? কলকাতা ফিরেই বা দুজনের কী হবে? মেঘছায়ে খুব কম একটা সময়ের গল্প। ওই কম সময়টুকুই অবশ্য মানবজীবনের সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ সময়। দেখা যাক শেষ অবধি দুজনের কী হয়..
কিষ্কিন্ধ্যা রক্তনদীর বিনিময়ে নিজের স্বাধীনতা রক্ষা করার পর কেটে গেছে বেশ কিছুকাল। স্বাধীনতা রক্ষা এবং যুদ্ধজয়েও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি। মহারাজ বালী এখন রাবণের মিত্র। মিত্রের দোষগুণ আত্মস্থ করে ধীরে ধীরে তিনিও নিজের অধিকারের মধ্যে সেইভাবেই চলেছেন। প্রজাদের দীর্ঘশ্বাস দন্ডভয়ে চাপা পড়ে যায়।
ত্রিভুবনসুন্দরী মিনাক্ষী কালকেয় দৈত্যকুমারের বিচ্ছেদে লঙ্কার সাথে সম্পর্ক ত্যাগ করেছেন, দৈত্যরাজ্যের স্বাতন্ত্র্য রক্ষার্থে প্রয়াত বা নিরুদ্দেশ প্রেমিকের অসম্পূর্ণ দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন শূর্পনখা রুপে।
রাবণের বিজয়রথ তাই এখন অপ্রতিহত। কিষ্কিন্ধ্যা তার মিত্র, কিষ্কিন্ধ্যার বাকি সহযোদ্ধারা তার বিজয়রথে ইন্ধন জোগায়। আর সেই বিজয়রথ গিয়ে পৌঁছায় স্বর্গের দ্বারে। সহাবস্থানের মিথ্যা স্তোতবাক্যে ভুলে থাকা দেবসাম্রাজ্যে তাই কাঁপন জাগে। মিথ্যা বিজয় গাথার ওপর রচনাকরা পুরন্দরের অভ্রভেদী সৌধ ভেঙে পড়ে চন্দ্রহাসের নির্মম আঘাতে। যুদ্ধ জাগে। মঙ্গল জেগে ওঠে। গ্রহসন্নিবেশ দূর্যোগের ইঙ্গিত দেয়। আর এই রাক্ষসকালে রাক্ষসরাজের রথচক্রের পদতলে জীবিত প্রাণের আহুতি রোধ করতে নিঃশব্দে এসে দাঁড়ান সূর্যপুত্র শনৈশ্চর।
কিন্তু গ্রহসন্নিবেশ কি রাবণের এই মারণযজ্ঞের অন্য করবে নাকি রাবণ স্বয়ং এই গ্রহসভার নিয়ন্ত্রণ দখল করে নেবে সেই মহাজাগতিক রাজনীতি ঘটতে থাকে চোখের আড়ালে।
আর এই রাক্ষসীবেলায় তপোবনে এসে দাঁড়ায় এক কিশোর , যার গাথা একদিন গাওয়া হবে প্রাসাদ থেকে পর্ণকূটীরে, একদিন ভারত যাকে মর্যাদা পুরুষোত্তম তথা নারায়ণ অবতার বলে স্বীকার করে নেবে। পাশে এসে দাঁড়ায় তার কনিষ্ঠ ভ্রাতা, যে মহাক্রোধে অক্ষৌহিনীধ্বংস করতে পারে। কিন্তু রাম তো শুধু যোদ্ধা বা সেনাপতি নয়, রাম রাজা। বনবাস বা যুদ্ধক্ষেত্র রাজসভা বা উদ্বাস্তুদের আবাস, সর্বত্র তাকে তাই দেখা যায় প্রজারক্ষাকে প্রাণাধক গুরুত্বপূর্ণ মনে করতে। তাই সেই দায়িত্ব নিয়েই তাকে মুখোমুখি হতে হয় তাড়কার, যে তাড়কা একদিন কিন্তু অসূয়পরায়ণ ঋষীর পাপে তার প্রেমিককে জীবন্ত দ্বগ্ধ হতে দেখেছিল, এবং সেই প্রতিক্রিয়া তাকে এখন মারণযন্ত্রে রুপান্তরিত করেছে। সে শান্ত নিরীহ জনপদের পর জনপদ শ্বশান করে এগিয়ে যেতে থাকে। উদ্দেশ্য তার ঋষীসভ্যতা মুছে দেওয়া। মহাভারতের মহাসমরাঙ্গলে তাই রক্তবর্ষার ঘ্রাণ।
আর এই দুই আবর্তের বাইরে এক শান্ত জনপদ মিথিলা, যেখানে রাজা লোলুপ নয়, রাজছত্র চামর গুরুর দায়িত্বে ছেড়ে সেই রাজর্ষি বর্ষাঋতুর আগমণে বেরিয়ে পড়ে প্রজাদের সাথে কর্ষণের দায়িত্ব ভাগকরে নিতে। আর সেইরকম এক বর্ষণমুখর সন্ধ্যায় তার কন্যা রুপে আসেন ধরিত্রীদুহিতা।
রণক্ষেত্রর বাইরে সেই অন্য তপোবনে কি দেখা হবে ভারতপুরুষের সাথে ধরিত্রীকন্যার? তাড়কার প্রতিশোধ আর কতো নিরীহ প্রাণ কাড়বে? গ্রহলক্ষণ কি শেষপর্যন্ত বৈশ্রবণপুত্রের পুরুষকারের অধীন হবে? স্বর্গলোকের পরিণতি কি? মৃত্যুলোকের অধিপতি কি পারবেন চন্দ্রহাস রোধ করতে? কিন্তু তারজন্য কতো মূল্য দিতে হবে?
চেনা রামকথার অন্য ব্যখ্যা নিয়ে এসেছে অধ্যাপক অভিষেক অধিকারীর Avishek Adhikari অন্যরামায়ণের দ্বিতীয় খন্ড মেঘমল্লার । আগের খন্ডে চন্দ্রহাস ধারক রাবণই ছিলেন একচ্ছত্র নায়ক। পরাজিত হয়েও যিনি বিজয়ী হয়ে যান। আর যাঁর বিজয় ঘোষিত হয়রক্ত আর আগুণে জনপদ ধ্বংস করে পরাজিত ভূমির বাসিন্দাদের ক্রীতদাসশিবিরে নিক্ষেপ করে।
তাই শেষে বৃষ্টি নামে, ধুয়ে যায় কিছু যন্ত্রণা। আবার নতুন করে আবর্তনের সংগ্রাম শুরু হয়। চলতে থাকে। চলতেই থাকে।
Publication – Shabdo Prokashon
Author – Mahua GHosh
Weight – 0.4kg
Binding – Hard Bound
মেহেন্দিপুরে মাহেন্দ্রানী
সমকালীন রাজনীতি সমকালের শিল্প-সাহিত্যের চরিত্র নির্ধারণ করে: ভাষা পর্যন্ত রাজনীতিই ঠিক করে দেয়।হয় প্রতিবাদ না হয় স্থিতাবস্থা, এই দুয়ের মাঝখানে থাকে একটি স্যুডো প্রতিবাদী স্যুডো স্থিতাবস্থাকামী রচনার ধারা। এটা গল্প কাঠামোর ক্ষেত্রেও যেমন সত্যি, ভাষার ক্ষেত্রেও ততোধিক সত্যি। ততোতোধিক সত্যি গল্পের প্লট নির্বাচনের ক্ষেত্রটি। দেশ অর্থনৈতিক সঙ্কট নিরসনের চেয়ে জনগণকে ধার্মিক করে তোলার ক্ষেত্রে বেশি মনোযোগী; অনীতিকে নৈতিক করে তোলায় মত্তমরীয়া। রাজনীতিবিহীন একটি জনসমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে অবিচল রাষ্ট্র। রাজনৈতিক অসুস্থতায় পৃথিবী নিজেই অসুস্থ, হাঁসফাঁস করছে। বিশ্ব ছোটগল্পের সংজ্ঞাটাই এখন বদলে গেছে স্বভাবতই। সর্বাধিক পরিমাণে বেঁচে থাকার সমাজে, গণিতের দ্বারা শাসিত সমাজে, আরো আরো আরো বাঁচতে চাওয়ার সমাজে, প্রাণ ভরিয়ে তৃষা হরিয়ে আরো আরো আরো প্রাণ-আকাঙ্ক্ষী সমাজে, আত্মহত্যা পর্যন্ত কেউ করতে পারে না, বড়ো জোর আত্মঘাতী হতে পারে। আত্মহত্যা এক-একটি সংঘঠিত প্রতিবাদ। আত্মঘাত কিন্তু আত্মসমর্পণ। ‘মেটাবলিক রিফ্ট’ গল্পগ্রন্থের গল্পগুলি আত্মহত্যার গল্প; অতএব প্রতিবাদের গল্প, অতএব প্রতিরোধের গল্প।
মেয়েদের তন্ত্র এবং অন্যান্য গুপ্তবিদ্যা
গৌতম সরকার
প্রচ্ছদ : স্বর্ণেন্দু ঘোষ
তন্ত্র বাংলা ও বাঙালির কাছে স্বাভাবিক যাপন। তন্ত্র সাধনায় নারীর গুরুত্ব অপরিসীম। তবে, এই গ্রন্থে আলাদাভাবে বিশেষত লোকনারীর শরীর-সংস্কৃতি এবং সমাজজীবনে যাপিত তন্ত্রের কথা উঠে এসেছে। পঞ্চ ‘ম’-এর মধ্যে মৈথুন এককভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তন্ত্র সাধনায় সিদ্ধিলাভের জন্য নারীরা লেসবিয়ানজম ও স্বমেহন মৈথুনের সাহায্য নিয়ে থাকে। এবং চর্চা করে থাকে। অনালোচিত লোকনারীর তন্ত্রচর্চা—এই গ্রন্থের মুখ্য উদ্দেশ্য। এছাড়াও বাংলা সাহিত্যে যেভাবে তন্ত্রচর্চার কথা আছে এবং বাংলার রূপকথা ও উপকথায় তন্ত্রের প্রয়োগ নিবিড়ভাবে আছে—এসবও এই গ্রন্থে আলোচিত হয়েছে। রূপকথার সোনার কাঠি ও রুপোর কাঠি আসলেই তন্ত্র প্রয়োগের প্রয়োজনীয় উপাদান। এক কাঠির মাধ্যমে রাজকন্যাকে বাঁচানো যায় আবার অন্য কাঠির মাধ্যমে তাকে আজীবন ঘুমের দেশে পাঠিয়ে দেওয়া যায়। কায়াবদল, মন্ত্র, বশীকরণ ইত্যাদি আরও নানারকম গুপ্ত তন্ত্র নিয়ে এই বইতে আলোচনা করা হয়েছে।
মিডফিল্ড : ঘাম রক্ত জেদ শ্রম
গৌতম সরকার
অনুলিখন ও সম্পাদনা : সুরবেক বিশ্বাস
গত শতাব্দীর অন্যতম সেরা ভারতীয় ফুটবলার গৌতম সরকার অবশেষে মুখ খুললেন এবং বিস্ফোরণ ঘটল। ফুটবল সম্রাট পেলেকে আটকে দেওয়ার পরেও তাঁকে ‘দেশদ্রোহী’ বলে দাগিয়ে তাঁর জীবন বিপন্ন করার মূলে কাদের মস্তিষ্ক? ১৯৮২-র দিল্লি এশিয়ান গেমসে ভারতীয় দল থেকে তাঁকে বাদ দেওয়ার পিছনে ‘গ্যাং অফ থ্রি’-র নোংরা খেলা। কারা সেই তিনমূর্তি? ইস্টবেঙ্গলে তাঁর ক্যাপ্টেন্সির বছরেই তিনি সাসপেন্ডেড এবং তাতে অবশ্যই বড় ভূমিকা টিমের কোচ নিয়েছিলেন। কে সেই কোচ? পিকে ব্যানার্জি এবং অমল দত্তর মধ্যে কোনও তুলনাই হতে পারে না বলে তাঁর স্পষ্ট অভিমত। তিনি মনে করেন, কৃশানু দে-কে মোটেই ভারতের মারাদোনা বলা যায় না এবং তিনিও ভারতের বেকেনবাওয়ার নন। এই ভড়ংহীন আত্মকথা হাট করে খুলে দিয়েছে বহু বহু বছর ধরে গোপন থাকা নির্মম সত্যের দরজা। পাশাপাশি, তুলে ধরেছে ষাটের দশকের শেষ থেকে আশির দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত কলকাতা তথা বাংলার ফুটবলের প্রামাণ্য বিবরণ।
বাংলার ঐতিহ্যবাহী মধ্যয়ুগের ইসলামী পর্বে পৌঁছে আমরা দেখি, শিল্পধারা ও শিল্পের প্রয়োগশৈলীর ক্ষেত্রে ধ্যান-ধারণার আঙ্গিক, দর্শন ও সংস্কৃতির অভূতপূর্ব সংমিশ্রণ। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও একটি গুণগত পরিবর্তনের ধারা পরিস্ফুট। বাংলার মধ্যযুগে নির্মিত ইসলামী স্থাপত্যগুলি শিল্পীর সৃজনশৈলীর যথার্থ পরিচায়ক। বাংলাদেশের মসজিদগুলির Terracotta Motif সমৃদ্ধ অলংকরণ সম্পর্কে কোনো ঐতিহাসিক দলিল সহজলভ্য নয়। সেইদিক দিয়ে অসংখ্য চিত্রসহ এই গ্রন্থটিকে একটি কালানুক্রমিক দলিল বলা যেতে পারে।
মেয়েদের ক্ষেত্রে ‘লাস্যময়ী’ শব্দটির ব্যবহার নিয়ে বাগবিতণ্ডা চলছে দীর্ঘকাল ধরে।
ব্যুৎপত্তিগত অর্থের বিচারে লাস্যমায়ী মানে লীলায়িত ভঙ্গিতে নৃত্যরত নারী হলেও প্রচলিত অর্থে যৌন উদ্দীপক অর্থেই এই শব্দটি বহুল ব্যবহৃত হয়। বিশেষত সিনেমার নায়িকাদের বেলায় অনেক সময় ‘কমপ্লিমেন্ট’ স্বরূপই বলা হয় কথাটি।
এই লাস্যময়ী ইমেজ ব্যবহারে শুধু নায়িকারাই নয়, তাদের চেয়ে বরং অনেকাংশে এগিয়ে আছেন মহিলা গুপ্তচররা।
বাস্তব জীবনে প্রতি মুহূর্তে অভিনয় করতে থাকা এই মহিলাদের মারণাস্ত্র ‘হানি ট্র্যাপ’ বা ‘মধুর ফাঁদে’ যে কত শত রাঘব বোয়াল ধরা পড়েছে, তার কোনও ইয়ত্তা নেই।
সোভিয়েত সমাজে যখন সর্বব্যাপী ভাঙনের ঢল নেমেছিল, সেই সময়ের তিনটি কাহিনি নিয়ে এই বই। বিশ্বখ্যাত প্রকাশনা সংস্থা প্রগতি প্রকাশনের সদর দপ্তর ছিল মস্কোর ১৭ জুবোফস্কি বুলভারে। সেখানে অনুবাদকের কাজ করতেন বাংলাদেশের সৌমেন রায়, পশ্চিমবঙ্গের ননী ভৌমিক, অরুণ সোম এবং আ অনেকে। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রগতি প্রকাশন বল হয়ে গেলে সেখানে যে গভীর বির্য নেমে এসেছিল, তারই গল্প জুবোফস্কি বৃচার। বাংলাদেশ থেকে মস্কোর এক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যাওয়া এক তরুণ ছাত্রের চোখে দেখা সোভিয়েত সমাজের ভাঙনের কাহিনি হলো পানপর্ব। সোভিয়েত ভাঙনের কালে মস্কোর এক বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে যাওয়া দুই ছাত্রের ঐতিহাসিক মোকাবিলা হচ্ছে পাকিস্তান, যেখানে ফিরে ফিরে আসে ১৯৪৭ সালের ভারতভাগ এবং ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের জন্মের ইতিহাসের খুঁটিনাটি।
ইজরায়েলের বহুচর্চিত ‘মোসাদ’ ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি হিসেবে পৃথিবীর অনেক দেশের কাছেই ত্রাসের কারণ। বিগত কয়েক দশক ধরে এই সংগঠন গুপ্তচরবৃত্তির দুনিয়ায় সেরার সেরা। পৃথিবীর একাধিক দেশে সংগঠিত তাদের সিক্রেট মিশনগুলোর জুড়ি মেলা ভার!
বিখ্যাত অথবা কুখ্যাত এই সংস্থা সম্পর্কে সাধারণের কাছে খুব কম তথ্যই পৌঁছয়। পাবলিক ডোমেনে এই সংক্রান্ত তথ্যও সীমিত। মোসাদের উৎপত্তি, তাদের অকথিত রোমাঞ্চকর অভিযানের খুঁটিনাটি, ইহুদি বিদ্বেষের কলঙ্কিত ইতিহাস এবং বর্তমান জিওপলিটিক্সের একাধিক গোপন কাহিনী নিয়ে পাঠকের দরবারে এবার হাজির—মোসাদ: যা আর্কাইভে নেই।
Publication – Shabdo Prokashon
Author – MAHUA GHOSH
Weight – 0.35kg
Binding – Hard Bound
মৃত্যুপুরীর দূত
জেরুজালেমের অদূরে গলগথার পাহাড়ে ৩৩ খ্রিস্টাব্দে ক্রুশবিদ্ধ এক হতভাগ্য যুবকের পাঁজরে লঞ্জিনাস নামের এক রোমান সেন্টুরিয়ানের বর্শার খোঁচা যে খ্রিস্টীয় উপকথার জন্ম দেয়, সেটি তাড়িয়ে নিয়ে গেছে কিংবদন্তির রাজা আর্থার থেকে ইতিহাসের জার্মান সম্রাট ফ্রেডরিক বার্বারোসা হয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের খলনায়ক তৃতীয় রাইখের স্রষ্টা অ্যাডলফ হিটলারকে।
যিশুখ্রিস্ট থেকে হিটলারের জার্মানি হয়ে আজকের পৃথিবীর বুকে কিংবদন্তির এই বর্শা ফলকের যাত্রাপথের রোমাঞ্চকর আখ্যানের সঙ্গে মিশে গেছে সুদূর ভারতবর্ষের কাশ্মীর উপত্যকার ইয়ুজ আসফ ও তাঁর মাজার রোজাবালের রোমাঞ্চকর জনশ্রুতি। এই সমাধি একজন বিদেশি সাধকের যিনি কাশ্মীররাজ গোপদত্তের আমলে আনুমানিক প্রথম খ্রিস্টাব্দে কাশ্মীরে আসেন পশ্চিম দেশ থেকে, এমন এক নবী, যাঁর প্রকৃত নাম ঈশা এবং রোজাবাল নামের মাজারটিতে নাকি একটি প্রস্তরখণ্ড আছে, যেখানে ইয়ুজ আসফের পায়ের ছাপটি ধরা ও সেই পায়ে নাকি ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার ক্ষতগুলি বিদ্যমান।
রহস্যময় ইয়ুজ আসফের মাজার রোজাবাল এই থ্রিলারের অন্যতম মুখ্য চরিত্র। আর তারই সঙ্গে নাৎসি রাজনীতি ও এক স্মৃতিভ্রষ্ট মানুষের মরণপণ এক সংগ্রামে জড়িয়ে পড়া, এই সবকিছু নিয়েই রোমাঞ্চকর ঐতিহাসিক অ্যাডভেঞ্চার থ্রিলার মৃত্যু-মৃগয়া।
জমাট বাঁধা অন্ধকার। তামসিক সকাল। মধ্যদিন। দুপুর। বিকেল-সন্ধ্যা-মধ্যরাতের জমে থাকা শব্দের গুচ্ছকথা মানুষের মরমের প্রতিধ্বনিত কান্না। বেশ কিছু দিন আগে স্ট্যানফোর্ড, প্রিন্সটন এবং বার্কেলের বিজ্ঞনীরা বিবৃতি দিয়েছেন, ‘ষষ্ঠ মহাবিলুপ্তি পর্ব আসন্ন। বিপুল সংখ্যক জীব পৃথিবী থেকে মুছে যেতে চলেছে, হয়তো মনুষ্য প্রজাতিও।’ করোনা অতিমারি সেই ভবিষ্যৎ-বাণী সত্য প্রমাণ করতে চইছে মানুষ।
Weight
0.5 kg
Dimensions
21 × 14 × 2 cm
Author Name
Abhik Dutta
Binding
Hardcover
ISBN
9789348544414
Language
Bengali
Pages
148
Publisher
Book Farm
Publishing Year
2025
অরুণা, দিয়া, সুস্মিতা, মৃত্তিকা… এই ফোর মাস্কেটিয়ার্সের সঙ্গে দুজন ফাউ ছিল প্রিয়াংশু আর তমাল। সময়ের চোরাপথে জীবনের জটিল সমীকরণে এরা নিজেদের হারিয়ে ফেলেছিল। পরিণাম ভয়ানক বীভৎস মৃত্যু! আর সেই যমদূতের সংকেত বয়ে আনত একটি বিড়ালের ডাক, ম্যাও। কিন্তু কেন? কেসটা নিজেই হাতে নিল লালবাজারের তরুণ গোয়েন্দা স্বয়ম্ভু সেন। সঙ্গে যোগ্য সহকারী শিবাঙ্গী বসু। গোয়েন্দাকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তাঁরই সামনে খুন হয়ে যাচ্ছে একের পর এক। এমনকি খুনের ভিডিয়োও পাঠিয়ে জানিয়ে দিচ্ছে ঠিক কীভাবে খুন করা হয়েছে। কিন্তু বিড়ালের ডাকের সঙ্গে এই নরহত্যার সম্পর্ক কী? এই কেসের সমাধান করতে না পারলে স্বয়ম্ভুকে বেছে নিতে হবে স্বেচ্ছাসাজা, যাবজ্জীবন অথবা ফাঁসি। স্বয়ম্ভু কীভাবে রহস্যের ঝুলি থেকে আসল বিড়ালটাকে খুঁজে বের করবে? কীভাবেই বা বন্ধ হবে শহরজুড়ে রক্তের হোলিখেলা?
নগরের রগড়
কৃষ্ণপ্রিয় দাশগুপ্ত
প্রচ্ছদ- সেঁজুতি বন্দ্যোপাধ্যায়
এ এক আশ্চর্য আর্কাইভ। ইতিহাসবিদ যাকে বলেন ওরাল হিস্ট্রি, তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে ব্যক্তিমানুষের জীবনের দীর্ঘযাত্রার এক আশ্চর্য ভ্রমণকাহিনি। লেখকের সাংবাদিক জীবনের বিচিত্র অভিজ্ঞতা কলকাতা মহানগরীর দিন ও রাতের এক নেশাতুর আবহ উঠে এসেছে এই গ্রন্থে। শৈশব থেকে কলোনি জীবনে বড় হয়ে ওঠা, নানাবিধ বইপড়ার এক আহরণ-যাত্রার ভিতর দিয়ে রচিত হয়েছে কলকাতা ও কলোনির ‘নগরের রগড়’। কলকাতার যৌনপল্লী, বিচিত্র সব মদের ঠেক, পথের ধারের অসংখ্য বিজ্ঞপ্তি, গঙ্গার ধারের শ্মশান, এই শহরের শিশু অপরাধী, চায়ের দোকানের বৈঠকী আড্ডা, কত মানুষ-এই সবই এই বইয়ের ঐতিহাসিক উপাদান।
হাঁটতে হাঁটতে লেখক তাঁর স্মৃতিপথ থেকে কুড়িয়ে নিয়ে এসেছেন এই শহরের জীবন্ত রগড়, যা আসলে কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী কলোনির বেঁচে থাকার এক অকথিত ইতিহাস। যে ইতিহাস তথাকথিত পাঠকক্ষের নিয়মের নিগড়ে বাঁধা নয়, বানানো নয়, রক্তমাংসের আর্কাইভ।
Author
Rajat Pal
Binding
Hard Cover
Publisher
Khori
Year of Publication
2023
Publication – Shabdo Prokashon
Author – Suchetana Sen Kumar
Weight – 0.65kg
Binding – Hard Bound
নমঃ শিবায়
বাদল সরকার নাটক সমগ্র
প্রথম খণ্ড : সলিউশন এক্স (একাঙ্ক), বড়ো পিসীমা, শনিবার (একাঙ্ক), রাম শ্যাম যদু, সমাবৃত্ত, এবং ইন্দ্রজিৎ, সারারাত্তির, বল্লভপুরের রূপকথা, কবি কাহিনী। (ভূমিকা-পবিত্র সরকার) ৫৫০
দ্বিতীয় খণ্ড: বিচিত্রানুষ্ঠান, বাকি ইতিহাস, বাঘ, পরে কোনোদিন, যদি আর একবার, প্রলাপ, ত্রিংশ শতাব্দী, বিবর, পাগলা ঘোড়া, সার্কাস। (ভূমিকা-শিবাজী বন্দ্যোপাধ্যায়) ৫৫০
তৃতীয় খণ্ড : সাগিনা মাহাতো, আবু হোসেন, স্পার্টাকুস, সুটকেস, বীজ, মিছিল, লক্ষ্মীছাড়ার পাঁচালী, নাট্যকারের সন্ধানে তিনটি চরিত্র, রূপকথার কেলেঙ্কারী, ভোেমা, সুখপাঠ্য ভারতের ইতিহাস, হট্টমেলার ওপারে, গণ্ডী, বাসি খবর, উদ্যোগপর্ব (ভূমিকা-শিবাজী বন্দ্যোপাধ্যায়) ৬০০
(তিন খণ্ডের মোট মূল্য ১৭০০)
অন্ধ হরিদাস বলে, লেখো লেখো মনকথা লেখো। গানের ধুয়ার মতন ফিরে ফিরে সে কথা উচ্চারিত হয়, “মনকথা লেখো”, এক জীবনে কত কথারা ছড়িয়ে থাকে আমাদের চারপাশে তাদের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি, প্রত্যাশা-প্রত্যাখান নিয়ে। কেবল দেশভাগের কারণে নয়, ক্ষুধার আর বেঁচে থাকার টানেও মানুষ দেশ ছাড়ে, পেছনের ঘর স্মৃতিকথা হয়। সেই পরিযায়ীর জীবনে হরিদাস, তিষ্য, শাক্য, অনুসূয়া, রেচিষ্ণুরা ভালোবাসা আর না-ভালোবাসা নিয়ে বেঁচে থাকে, জীবনের পথ চলে।
লেখক পরিচিতি :
অধ্যাপনা আর অ্যাকাডেমিক লেখালেখির মাঝখানে সুতপা দাস জীবনের টানে লিখতে শুরু করেছিলেন উপন্যাস। তাঁর কথায় জন্মমাটির কাছে, বাঁশ, ছন, ছড়া লুঙ্গা, লালমাটির টিলায় বেড়ে উঠবার ভূমির কাছে আমার অনেক ঋণ; ঋণ ভারতবর্ষের প্রান্তিক রাজ্যের প্রান্তবাংলার বিচিত্র রূপের কাছে। আমার লেখা তার নির্মিতে সে ঋণশোধ করবার চেষ্টা মাত্র। এর বেশি আমার কোনো পরিচয় নেই।
নেতাজি অন্তর্ধান রহস্য সন্ধানে নতুন তখ্যের সন্ধান দিয়েছে এই গ্রন্থ। প্রথম প্রকাশিত লণ্ডনের মহাফেজখানা থেকে প্রাপ্ত তাইওয়ান সরকারের রিপোর্ট, হারিন শাহ রিপোর্ট ও নেতাজি রহস্য সংক্রান্ত অন্যান্য অনালোচিত অধ্যায়।
নিউট্রালাইজ
দ্বৈপায়ন ধর চৌধুরী
প্রচ্ছদ : শ্রীময় দাস
সৌদি আরব তেল রপ্তানি করতে রাজী নয়, তাও আবার খেদ আছেন টমকে। স্পর্য বললে স্পর্শী, দুঃসাহস বললে দুঃসাহস এহেন নিষেধাজ্ঞা জারি করবার দু বছরের মধ্যেই প্রাণ হারালেন সৌদির বাদশাহ। কে মারল তাঁকে। কেনই বা মারল? কার লাভ
তার মৃত্যুতে?
জটিল সমীকরণ থেকে এক্সকে সরিয়ে দিলে কি সমীকরণ সহজ হয়ে যায়। নাকি দান। যাঁবে জটিলতর কিছুসব প্রশ্নের উত্তর নিয়ে আসছে দ্বৈপায়ন ধর চৌধুরীর নিউট্রোলাইজ খাকছে দুটি জিও পলিটিকল থ্রিলার, হাতিয়ার এবং কলে সোনায় খান
Publication – Shabdo Prokashon
Author – Debjyoti Bhattacharyya
Weight – 0.35kg
Binding – Hard Bound
নিউগেট ক্যালেন্ডার
নিউটনের আপেল ও প্রেমিকা : মিথ ও ঘটনা
সহস্রলোচন শর্মা
ভূমিকা : “১৬৬৬ সালের গ্রীষ্মকাল। সন্ধ্যা তখন সমাগত প্রায়। নিজের বাড়ির বাগানে পায়চারি করছিলেন বছর চব্বিশের এক যুবক। খানিকটা চিন্তা মগ্নই দেখাচ্ছিল তাঁকে তখন। হঠাৎই একটা আপেল খসে পড়ে তাঁর মাথায়। আপেলের এই অভিঘাত থেকেই তাঁর মনে উদয় হল এক মোক্ষম প্রশ্ন- ‘আপেলটা উপরে না গিয়ে নিচে পড়ল কেন?’ আর এই প্রশ্নের জবাব অনুসন্ধান করতে গিয়েই তিনি আবিষ্কার করলেন তাঁর বিখ্যাত প্রতিপাদ্য- মাধ্যাকর্ষণ বল।
পাঠক নিশ্চয় বুঝতে পারছেন, কোন্ মনিষীর জীবনের ঘটনাংশ বিবৃত করা হয়েছে উপরের ছত্র ক’টায়? মাধ্যমিক স্তরের কিশোর কিশোরীদের কাছেও সুবিদিত নিউটনের এই আপেল কাহিনি। অথচ নিউটন ছাড়া সেদিন কিন্তু অন্য কেউই উপস্থিত ছিলেন না সেই বাগানে। আর তাঁর জীবদ্দশায় তিনি কখনও কোথাও এই আপেল কাণ্ডর কথা লিপিবদ্ধও করে যাননি। নিউটনের মৃত্যুর পর সামনে আসে আপেল কাণ্ড। নিউটনের অনুপস্থিতিতে কে প্রচার করলেন এই আপেল প্রপাতের কথা? তিনি কী করে জানলেন এই আপেল কাহিনি?
ইতিহাসের প্রতি তথ্যনিষ্ঠ থেকে আপেল কাণ্ডের অনুসন্ধান করেছি। যা পেয়েছি, যথাসম্ভব নিরপেক্ষভাবে তা তুলে ধরেছি ‘নিউটনের আপেল’ নিবন্ধে। স্বীকার করতে দ্বিধা নেই, তথ্যর ভারে সর্বত্র ঋজু রাখতে পারি নি সে কাহিনির যাত্রা পথ। তবে একথা প্রবলভাবে বিশ্বাস করি, ধৈর্য্য ধরে পথটা যদি অতিক্রম করতে পারেন, ফল লাভ থেকে কিন্তু বঞ্চিত হবেন না।সবাই হয়তো জানেন যে, আজীবন অকৃতদার ছিলেন নিউটন। কিন্তু একথা কি সত্যি যে, কোনও দিনও কোনও নারীর ছায়াই পড়েনি নিউটনের জীবনে? আপেল কাণ্ড অনুসন্ধান করতে গিয়েই হদিশ পাই নিউটনের প্রেমিকার। নিউটন বেঁচে থাকাকালীন তাঁর প্রেমিকার হদিশ পান নি কেউই। আর তাঁর কৈশোরকালের সেই প্রেম নিয়ে একবারের জন্যও মুখ খোলেন নি নিউটনও। আপেল কাণ্ডের মতই, তাঁর মৃত্যুর পর সামনে আসে এই প্রেম কাহিনি। কে প্রথম হদিশ পেলেন নিউটনের প্রেমিকার? ৭০ বছর আগের সেই প্রেম কাহিনি কী করে জানলেন তিনি? আজও ইতিহাসের ধূলি ধূসরিত পাতার এক কোণে গুটি কয়েক অক্ষরের মধ্যেই লুকিয়ে আছে সেই অজানা প্রেম কাহিনি। নিউটনের কৈশোরকালের স্বল্পমেয়াদী সেই প্রেম কাহিনি বিধৃত করেছি ‘নিউটনের প্রেমিকা’ নিবন্ধে। প্রেম কাহিনির পাশাপাশি কিশোর নিউটনের নানান অজানা ঘটনাও মেলে ধরেছি সেখানে, যাকে আমি কিশোর নিউটনের পূর্ণাঙ্গ জীবনী হিসেবে ভাবতে ভালোবাসি।”
—————সহস্রলোচন শর্মা
নিমন্ত্রণ
মানস শেঠ
অতিথিপরায়ণ বাঙালির ‘নিমন্ত্রণ’-এর অন্দরে থাকা সামাজিক ইতিহাস, লোকাচার ও মানবিক সম্পর্কের ভাষ্য নির্মাণের প্রচেষ্টা এই বই।
নিরামিষ একাই ১০০
রঙ্গন নিয়োগী
সংকলন ও সম্পাদনা- ইন্দ্রনীল চট্টোপাধ্যায়
প্রচ্ছদ- সেজুঁতি বন্দ্যোপাধ্যায়
বাঙালির রসুইঘরে এক আশ্চর্য শৈল্পিক উপস্থিতি তার বিভিন্ন নিরামিষ পদ। প্রাচীন কালে কিছুটা সামাজিক এবং ধর্মীয় কারণে বাঙালি পরিবারের মা, ঠাকুমা, দিদিমা, পিসিমা, মাসিমারা তাঁদের উদ্ভাবনী শক্তি কাজে লাগিয়ে আবিষ্কার করেছিলেন পেঁয়াজ বা রসুনের উপস্থিতি ছাড়াই সহজলভ্য শাক-সবজি, নারকেল, পোস্ত ইত্যাদি উপকরণ ব্যবহারে শুক্তো, ঘন্ট, চচ্চড়ির মতন নানান পদের। নিরামিষ পদের রন্ধনপ্রণালীতে এভাবেই এসে লাগে পারিবারিক ছোঁয়া। বাঙলার নিরামিষ পদ ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে বাঙালি রন্ধন শিল্পের সম্পদ। এই বইয়ের প্রায় সমস্ত পদের রন্ধনপ্রণালী এসেছে একজিটিউটিভ শেফ রঙ্গন নিয়োগীর পারিবারিক সংগ্রহ থেকে। তাই এর প্রতিটি পদেই লেগে আছে একটি পরিবারের রন্ধনকুশলী প্রিয়জনদের মমত্বের ছোঁয়া। আশাকরি এই নিরামিষ রান্নার রন্ধনপ্রণালী জয় করে নেবে ভোজনরসিক বাঙালির রসনা ও মন।
‘নিরামিষ’ হিন্দু ভারত : ‘আমিষ’ সেকুলার ভারত
ব্রাত্য বসু
ধর্মাচরণকারী নিরামিষ খাবে না আমিষ? এ তর্ক আবার উঠল এই রাজ্যে মন্দির উদ্বোধন এবং ভুয়ো খবরকে কেন্দ্র করে। কিন্তু আদতেই কি ধর্ম ধার্মিকের কাছে এসব জবাবদিহি চায়? সহিহিন্দুকে কি শ্রাবণমাসে নিরামিষ খেতেই হবে? মোদির নিদানকে সমর্থন করে বৈদিক ধর্মগ্রন্থ, স্মৃতিশাস্ত্র? খানাপিনাকে কী ভাবে দেখা হয়েছে নানা সাম্রাজ্যে?
এই মনোগ্রাফে ব্রাত্য বসু খুঁটিয়ে দেখেছেন তথ্য, আমাদের পৌঁছে দিয়েছেন তত্ত্বে।
ভারতের কমিউনিস্ট আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ সৌম্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর। আজকে তাঁকে যতই কেবল মাত্র রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভ্রাতুপৌত্র, রবীন্দ্রসংগীতের অন্যতম বিশেষজ্ঞ, বৈতানিকের প্রতিষ্ঠাতা ইত্যাদি বলে পরিচিত করানো হোক না কেন, আদতে তিনি ছিলেন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির প্রথম কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য। পরবর্তীকালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ভারতের বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি বা আরসিপিই। শুধু দেশের শ্রমিক আন্দোলনেয়ে, আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট আন্দেশনের মঞ্চেও সৌম্যেন্দ্রনাথের নাম উল হয়ে আছে। কিন্তু একাংশের য এবং আমাদের সচেতনতার অভাবে আজ তিনি এক বিস্মৃতপ্রায় চরিত্র। তাঁর বিরোধীরা তাঁকে ভুলিয়ে দিতে চান, মুছে দিতে চান তাঁর রাজনৈতিক অবদান; অপরদিকে, তাঁর অনুগামী বলে পরিচিত কিছু লোক, তাঁকে বিগ্রহ বানিয়ে পুজো করার ভান করে তাঁর মার্কসবাদী পরিচয়টাই লোপাট করে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এই দ্বৈত আক্রমণের সামনে দাঁড়িয়ে সৌম্যেন্দ্রনাথকে তাঁর সামগ্রিকতায় আবিষ্কারের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে আজ। ছোট এবং বিক্ষিপ্তভাবে হলেও কাজটা শুরু হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় প্রকাশিত হল সৌম্যেন্দ্রনাথের নির্বাচিত রচনাবলীর এই প্রথম খণ্ড।
শ্রী নীরেন্দ্রনাথ ভাদুড়ি। সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক। পড়াতেন সংস্কৃত কিন্তু একাডেমিক কৌতূহলে যোগ দেন তন্ত্রের অন্দরে। বিচিত্র সব অভিজ্ঞতায় ভরপুর বহুবর্ণের জীবন!
‘নীরেন ভাদুড়ি’ সমগ্রের এই প্রথম খন্ডে, সেই সব অভিজ্ঞতা থেকে নেওয়া একটি উপন্যাস আর দুটি বড় গল্পের সংকলন করা হয়েছে।
গল্প:
অরণ্যের প্রাচীন প্রবাদ
পর্ণশবরীর শাপ
উপন্যাস:
নিকষছায়া।
নোনাপানি ইশকুল
চন্দনা সান্যাল
ছবি- মধুরিমা হাইত
কলেজে পড়ানোর স্বপ্নকে সরিয়ে রেখে বাধ্য হয়ে যে ইশকুলের চাকরিতে ঢুকতে হয়েছিল কবে থেকে সেই ইশকুল হয়ে গেল অস্তিত্বের আর এক নাম, কোথা দিয়ে পেরিয়ে গেল চৌত্রিশটা বছর তাকেই ফিরে দেখা অবসরের অলস নিঝুম দুপুরে। ফিরে দেখা সময়ের হাত ধরে চেনা শহরের, জানা পারিপার্শ্বিকের অগোচরে বদলে যাওয়াকে। ফিরে দেখা অবসরের আগে কোভিড-কবলিত শেষ দু-বছরের নিউ-নর্মাল অভিজ্ঞতাকে। আসলে বার বার এই সব কিছুর মধ্যে দিয়ে ফিরে ফিরে যাওয়া শিক্ষক-ছাত্রের অনন্য সম্পর্কের শিকড়ে যা বহু তোলপাড়েও বদলায় না, যা এক অতি সাধারণ মানুষের অতি সাধারণ যাপনকে অকৃপণ দানে করে তোলে অসাধারণ। এ এক ফিরে ফিরে দেখার গল্প, প্রতি দেখায় কুড়িয়ে পাওয়া নতুন কিছু।
লেখক সম্পর্কে :
জন্ম ১৯৬১ সালে কলকাতায়। স্কুলের পাঠ ব্রাহ্ম বালিকা শিক্ষালয়ে, কলেজের পাঠ প্রেসিডেন্সি কলেজে।
সাম্মানিক বাংলায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ। বি-এড ট্রেনিং নিয়ে কলকাতার সল্টলেক স্কুলে বাংলা বিভাগে যোগদান। সাহিত্য-চেষ্টা বড় ছোটর ছড়া (বন্ধু পাবলিকেশনস), রান্নাঘরের নকশিখাতা (৯ঋকাল বুক্স)
সেখানেই টানা ৩৪ বছর শিক্ষকতার পর ২০২১ সালে অবসর গ্রহণ।
তন্ত্র নির্ভর ভৌতিক গল্প ধারায় ননী কাপালিক চরিত্রটি অন্য মাত্রার দাবী রাখে। শুষ্ক মেদহীন শরীর। মুখ ভর্তি দাঁড়ি ও মাথা ভর্তি জট, যা কোমর অব্দি বিস্তৃত। পরনে কেবল কৌপিন। সম্বল বলতে সব সময়ের সঙ্গী একটি করোটি। সর্বাঙ্গে চিতাভস্ম । কপালে মেটে সিঁদুরের লেপন। দুচোখে ভূত- ভবিষ্যতের জ্ঞানশিখা সর্বদা প্রজ্বলিত। জগৎ সংসারে উপস্থিত তন্ত্রের সকল মার্গ তাঁর অধীন। দেখে যেন মনে হয় অনন্ত কাল ধরে তিনি এই জগৎ সংসারের অশুভ শক্তিকে বিনাশ করার লক্ষ্যে ভ্রমণ করে বেড়াচ্ছেন। শ্মশানচারী, তন্ত্রজ্ঞানী, পিশাচ সিদ্ধ, দশমহাবিদ্যায় পারদর্শী, নির্ভীক, ননী কাপালিক সমস্ত রকম অপশক্তির মায়াজাল ছিন্ন করতে সর্বদা প্রস্তুত। অসীম অলৌকিক শক্তির অধিকারী হয়েও ব্যক্তি স্বার্থে তিনি তা প্রয়োগ করেন না। তাঁর শরণাপন্ন হয়ে আজ অব্দি কেউ শূন্য হাতে ফিরে যায়নি। তাঁর প্রিয় খাদ্য বস্তু ননী।
Weight
0.5 kg
Dimensions
21 × 18 × 2 cm
Author Name
Ashish Chakraborty
Binding
Hardcover
Language
Bengali
Publisher
Patrapath
Publishing Year
2024
রহস্যসন্ধানী ব্যোমকেশ বক্সীর অমর স্রষ্টা শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইতিহাস-আশ্রিত গল্প-উপন্যাসে কাহিনী ও ইতিহাস যুগপৎ ‘জীবন্ত’ হয়ে উঠেছে। বৌদ্ধযুগ, গৌড়বঙ্গ, চৈতন্যযুগ, প্রাক-মুঘল কিংবা মুঘল যুগ অথবা অদূর অতীতের পোর্তুগিজ-ইংরেজ অধিকৃত বাংলার সমকাল দুর্নিবার হয়ে উঠেছে কল্পনা ও বর্ণনার অশেষ গুণে, রচনা ও গল্পরসের অনিবার্য সৃষ্টিতে। তিনি বলতেন: ‘ইতিহাসের গল্প লিখেই বেশি তৃপ্তি পেয়েছি।’
Intimacies : অন্তরঙ্গতা
Artist : Kushal Ray
শিল্পী : কুশল রায়
Book design : Riti Sengupta
বিন্যাস : রিতি সেনগুপ্ত
The second edition and first bilingual version of celebrated photo book ‘Intimacies : অন্তরঙ্গতা’ by veteran artist Kushal Ray .
বর্ষীয়ান আলোকচিত্রী কুশল রায়ের বহু প্রশংসিত বই ‘Intimacies : অন্তরঙ্গতা’ র নতুন দ্বিভাষিক সংস্করণ।
Kushal Ray’s decade-long work on an extended family in Kolkata’s Kalighat area is more of effort to explore relationships and Intimacies that the members enjoyed among themselves than any perceived social documentary work on a joint family system. Being very close to the family has made his work, to a large extent, personal and autobiographical. During his long association he was witness to and participant in the joys, losses and finally disintegration of the Chatterjee family. In this celebrated work between 1998 and 2009 he photographed the home, tracing the ordinary but fascinating and complex lives and authored an ode to Manju Chatterjee, the backbone of the family.
Kushal Ray, a sports journalist turned photographer and painter, has taken part in several major international photography exhibitions. His work has been published in a number of prestigious photography magazines.He is associated with Kolkata Centre for Creativity (KCC) and Emami Art.
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কুশল রায় কলকাতার কালীঘাট অঞ্চলের একটি যৌথ পরিবারের সদস্যদের জীবন ও যাপনকে অনুপুঙ্খভাবে ফ্রেমবন্দি করেছেন। চ্যাটার্জি পরিবারের সদস্যদের পারস্পরিক ভাব ভালোবাসা টানাপোড়েন ও শিল্পীর তাদের সাথে গড়ে ওঠা অন্তরঙ্গ সম্পর্ক হয়ে উঠেছে এই বইয়ের কেন্দ্রবিন্দু । ১৯৯৮ থেকে ২০০৯ এই দীর্ঘ সময় শিল্পী এই পরিবারের আনন্দ, দুঃখ ও বিচ্ছেদের সাক্ষী হয়ে উঠেছেন । পাঠক সমাদৃত এই বইটির বিষয় আপাত সাধারণ কিন্তু শিল্পী তার উপস্থাপনার মুন্সিয়ানায় এক আকর্ষণীয় ও জটিল মনস্তাত্ত্বিক জগতকে উন্মোচিত করেছেন।
কুশল রায় দ্য টেলিগ্রাফ পত্রিকার প্রাক্তন ক্রীড়া সাংবাদিক ও সুপরিচিত আলোকচিত্রশিল্পী । তার ছবি দেশে বিদেশের নানান গুরুত্বপূর্ণ আলোকচিত্র পত্রিকা ও প্রদর্শনীতে সমাদৃত। তিনি KCC কলকাতা ও ইমামি আর্ট গ্যালারির সাথে যুক্ত আছেন।
দিল্লি শুধু ভারতের হৃদিপদ্ম নয়, ইতিহাসের বুকজুড়ে লেখা যুদ্ধ, ষড়যন্ত্র আর রক্তাক্ত স্মৃতির নাম। বহিরাগত আক্রমণ আর অভ্যন্তরীণ বিশ্বাসঘাতকতার চাপে আজও সে শহর দাঁড়িয়ে আছে বারুদের স্তূপে।
এই মুহূর্তে সেই দিল্লি সন্ত্রাসের নিশানায়। পাঁচ লক্ষ মানুষের ভিড়ের মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে অদৃশ্য শত্রু, স্লিপার সেল। কানাডা, দুবাই, লন্ডন, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, বাংলাদেশ—দেশের পর দেশ জুড়ে ছড়ানো এক ভয়ংকর নেটওয়ার্ক, যার সুতো টানলে কেঁপে উঠবে গোটা উপমহাদেশ।
দেশজুড়ে যুদ্ধ বাধিয়ে মুনাফা লুটছে অস্ত্র আর ধর্মের কারবারিরা। তাদের রুখতে, লক্ষ লক্ষ নিরীহ মানুষের প্রাণ বাঁচাতে অবসর ভেঙে গুপ্তচরবৃত্তির অন্ধকার জগতে ফিরতে বাধ্য হন এক বৃদ্ধ। তাঁর অতীত কখনও গোপন অপারেশন, কখনও ব্যর্থতা আর কখনো রক্তাক্ত সাফল্যে আলোছায়াময়।
সময় ফুরিয়ে আসছে। শত্রু অদৃশ্য, একটা ভুল সিদ্ধান্ত লক্ষ লক্ষ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিতে পারে! কী প্ল্যান স্লিপার সেলের? এই প্ল্যান ভেস্তে দেওয়া কি আদৌ সম্ভব? নাকি ইতিহাসের আরেকটি ক্ষতচিহ্ন যোগ হবে দিল্লির বুকে?
পরতে পরতে রোমাঞ্চ আর অ্যাকশন। অবিশ্বাস্য গতির এই কাহিনিতে আপনিও যে কখন আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের রুদ্ধশ্বাস টানাপোড়েনের জালে জড়িয়ে পড়েছেন – সেই ধাঁধা রয়ে যাবে শেষ পর্যন্ত।
অপারেশন আলবিদা
চিত্রদীপ চক্রবর্তী
১৯৯৯-এর ২৪ ডিসেম্বর। কাঠমান্ডু থেকে দিল্লি যাওয়ার আইসি-৮১৪ বিমান হাইজ্যাক করেছিলেন পাকিস্তানের পাঁচ জঙ্গি। এরা প্রত্যেকেই হরকত-উল-মুজাহিদিনের সদস্য ছিলেন। এক সপ্তাহ ধরে অপহরণকারীদের সঙ্গে কথাবার্তা চালানোর পরে শেষ পর্যন্ত ১৭৯ জন বিমান যাত্রীর প্রাণ বাঁচাতে পাকিস্তানের তিন কুখ্যাত জঙ্গি নেতাকে মুক্ত করতে বাধ্য হয় ভারত। যাঁদের মধ্যে অন্যতম জৈশ-ই-মহম্মদের প্রতিষ্ঠাতা মাসুদ আজহার। দেশের তরফে সেই ঘটনায় অন্যতম মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছিলেন বর্তমানে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। সেদিন একজন সাধারণ আইবি কর্তার ভূমিকা পালন করলেও নিজের মনের ভিতরে প্রতিশোধের আগুন জ্বলছিল তাঁর। বলতে গেলে তখন থেকেই ‘ব্ল্যাক ওয়ারেন্ট’ লেখা হয়ে গিয়েছিল চিফ, বার্গার, ডক্টর, শঙ্কর এবং ভোলা কোডনেমের আড়ালে থাকা পাঁচ জঙ্গির। দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি, ধৈর্য এবং সুযোগের ফায়দা তুলে এদের মধ্যে সবচেয়ে খতরনাক জঙ্গিকে ২০২২-এর ১ মার্চ নিকেশ করেন র’-এর অফিসারেরা। এই বইয়ে তুলে ধরা হয়েছে সেই টানটান উত্তেজনায় ভরা অপারেশনের বিস্তারিত বিবরণ। যে মিশনের নাম দেওয়া হয়েছিল—‘অপারেশন আলবিদা।’
Weight
0.5 kg
Dimensions
21 × 18 × 2 cm
Author Name
Sunilkumar Ghosh
Language
Bengali
Binding
Hardcover
Publisher
Tuli kalam
Publishing Year
2025
Weight
0.6kg
Dimensions
21 × 18 × 2 cm
অক্সিজেন
সর্বাণী বন্দ্যোপাধ্যায়
শহরতলির একটি অতি সাধারণ মেয়ে কুহু। ক্লাস ফাইভের বাংলা বইয়ে তেনজিং নোরগে আর এডমন্ড হিলারির এভারেস্ট অভিযানের কাহিনি পড়ে ছোট্ট সেই মেয়েটার মনে পাহাড়জয়ের স্বপ্নের বীজ সেই দিনই পোঁতা হয়ে যায়। ধীরে ধীরে সেই বীজ অঙ্কুরিত হয়। ডালপালা মেলে। পাহাড়ের হাতছানিতে এক পা দু’পা করে কুহুর স্বপ্ন-ছোঁয়ার আখ্যান এই উপন্যাস।
Author
Specifications
Binding
Hardcover
ISBN
978-81-939838-6-7
Publishing Year
2019
Pages
248

