Meghmollar Onya Ramayana – মেঘমল্লার : অন্য রামায়ণ

640.00 Original price was: ₹640.00.512.00Current price is: ₹512.00.

কিষ্কিন্ধ্যা রক্তনদীর বিনিময়ে নিজের স্বাধীনতা রক্ষা করার পর কেটে গেছে বেশ কিছুকাল। স্বাধীনতা রক্ষা এবং যুদ্ধজয়েও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি। মহারাজ বালী এখন রাবণের মিত্র। মিত্রের দোষগুণ আত্মস্থ করে ধীরে ধীরে তিনিও নিজের অধিকারের মধ্যে সেইভাবেই চলেছেন।‌ প্রজাদের দীর্ঘশ্বাস দন্ডভয়ে চাপা পড়ে যায়।

ত্রিভুবনসুন্দরী মিনাক্ষী কালকেয় দৈত্যকুমারের বিচ্ছেদে লঙ্কার সাথে সম্পর্ক ত্যাগ করেছেন, দৈত্যরাজ্যের স্বাতন্ত্র্য রক্ষার্থে প্রয়াত বা নিরুদ্দেশ প্রেমিকের অসম্পূর্ণ দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন শূর্পনখা রুপে।

রাবণের বিজয়রথ তাই এখন অপ্রতিহত। কিষ্কিন্ধ্যা তার মিত্র, কিষ্কিন্ধ্যার বাকি সহযোদ্ধারা তার বিজয়রথে ইন্ধন জোগায়। আর সেই বিজয়রথ গিয়ে পৌঁছায় স্বর্গের দ্বারে। সহাবস্থানের মিথ্যা স্তোতবাক্যে ভুলে থাকা দেবসাম্রাজ্যে তাই কাঁপন জাগে। মিথ্যা বিজয় গাথার ওপর রচনাকরা পুরন্দরের অভ্রভেদী সৌধ ভেঙে পড়ে চন্দ্রহাসের নির্মম আঘাতে। যুদ্ধ জাগে। মঙ্গল জেগে ওঠে। গ্রহসন্নিবেশ দূর্যোগের ইঙ্গিত দেয়। আর এই রাক্ষসকালে রাক্ষসরাজের রথচক্রের পদতলে জীবিত প্রাণের আহুতি রোধ করতে নিঃশব্দে এসে দাঁড়ান সূর্যপুত্র শনৈশ্চর।

কিন্তু গ্রহসন্নিবেশ কি রাবণের এই মারণযজ্ঞের অন্য করবে নাকি রাবণ স্বয়ং এই গ্রহসভার নিয়ন্ত্রণ দখল করে নেবে সেই মহাজাগতিক রাজনীতি ঘটতে থাকে চোখের আড়ালে।

আর এই রাক্ষসীবেলায় তপোবনে এসে দাঁড়ায় এক কিশোর , যার গাথা একদিন গাওয়া হবে প্রাসাদ থেকে পর্ণকূটীরে, একদিন ভারত যাকে মর্যাদা পুরুষোত্তম তথা নারায়ণ অবতার বলে স্বীকার করে নেবে। পাশে এসে দাঁড়ায় তার কনিষ্ঠ ভ্রাতা, যে মহাক্রোধে অক্ষৌহিনীধ্বংস করতে পারে। কিন্তু রাম তো শুধু যোদ্ধা বা সেনাপতি নয়, রাম রাজা। বনবাস বা যুদ্ধক্ষেত্র রাজসভা বা উদ্বাস্তুদের আবাস, সর্বত্র তাকে তাই দেখা যায় প্রজারক্ষাকে প্রাণাধক গুরুত্বপূর্ণ মনে করতে। তাই সেই দায়িত্ব নিয়েই তাকে মুখোমুখি হতে হয় তাড়কার, যে তাড়কা একদিন কিন্তু অসূয়পরায়ণ ঋষীর পাপে তার প্রেমিককে জীবন্ত দ্বগ্ধ হতে দেখেছিল, এবং সেই প্রতিক্রিয়া তাকে এখন মারণযন্ত্রে রুপান্তরিত করেছে। সে শান্ত নিরীহ জনপদের পর জনপদ শ্বশান করে এগিয়ে যেতে থাকে। উদ্দেশ্য তার ঋষীসভ্যতা মুছে দেওয়া। মহাভারতের মহাসমরাঙ্গলে তাই রক্তবর্ষার ঘ্রাণ।

আর এই দুই আবর্তের বাইরে এক শান্ত জনপদ মিথিলা, যেখানে রাজা লোলুপ নয়, রাজছত্র চামর গুরুর দায়িত্বে ছেড়ে সেই রাজর্ষি বর্ষাঋতুর আগমণে বেরিয়ে পড়ে প্রজাদের সাথে কর্ষণের দায়িত্ব ভাগকরে নিতে। আর সেইরকম এক বর্ষণমুখর সন্ধ্যায় তার কন্যা রুপে আসেন ধরিত্রীদুহিতা।

রণক্ষেত্রর বাইরে সেই অন্য তপোবনে কি দেখা হবে ভারতপুরুষের সাথে ধরিত্রীকন্যার? তাড়কার প্রতিশোধ আর কতো নিরীহ প্রাণ কাড়বে? গ্রহলক্ষণ কি শেষপর্যন্ত বৈশ্রবণপুত্রের পুরুষকারের অধীন হবে? স্বর্গলোকের পরিণতি কি? মৃত্যুলোকের অধিপতি কি পারবেন চন্দ্রহাস রোধ করতে? কিন্তু তারজন্য কতো মূল্য দিতে হবে?

চেনা রামকথার অন্য ব্যখ্যা নিয়ে এসেছে অধ্যাপক অভিষেক অধিকারীর Avishek Adhikari অন্যরামায়ণের দ্বিতীয় খন্ড মেঘমল্লার । আগের খন্ডে চন্দ্রহাস ধারক রাবণই ছিলেন একচ্ছত্র নায়ক। পরাজিত হয়েও যিনি বিজয়ী হয়ে যান। আর যাঁর বিজয় ঘোষিত হয়রক্ত আর আগুণে জনপদ ধ্বংস করে পরাজিত ভূমির বাসিন্দাদের ক্রীতদাসশিবিরে নিক্ষেপ করে।

তাই শেষে বৃষ্টি নামে,  ধুয়ে যায় কিছু যন্ত্রণা। আবার নতুন করে আবর্তনের সংগ্রাম শুরু হয়। চলতে থাকে। চলতেই থাকে।

Author: Pratibarta Abhisek Adhikari
লিখেছেন/সম্পাদনা করেছেন – প্রতিবর্ত অভিষেক অধিকারী
প্রকাশক – প্রজ্ঞা পাবলিকেশন প্রাইভেট লিমিটেড